রাক্ষুসে মাছ

রাক্ষুসে মাছ

রুহুল আমিন রাকিব : এক গাঁয়ে ছিলো একটা পুকুর। পুকর জুড়ে সব সময় পানি থাকত। ওই পুকুরে, মাছ ও ব্যাঙ এক সাথে বসবাস করত। ওরা এক জন আরেক জনের কাছে নিজের ভালো মন্দ সব রকম কথা শেয়ার করত। ব্যাঙ ও মাছের মাঝে খুব ভাব ছিলো। বর্ষার নতুন পানিতে তারা সারা পুকুরে ঘুরে বেড়াতো। বেশ হাসি-খুশিতে ওদের দিন যেতো। রোজ রাতেও মনের সুখে তারা গল্প করত।তবে এবার বর্ষা কালে, হঠাৎ একদিন রাতে ঘটলো বড় রকমের দূর্ঘটনা। পুকুরে বড় কি যেন একটার আক্রমণে সারা পুকুরের মাছেরা ছোটা-ছুটি করতে লাগলো। ব্যাঙ ভয়ে  গুটি-শুটি মেরে গর্তে ঢুকে পড়লো। সারা রাতে পুকুরে মাছ গুলোর ছোটা ছুটি শেষে যখন সকাল হলো, তখন পরিবেশ একদম শান্ত হয়ে গেলো।
ব্যাঙ ভয়ে ভয়ে গর্ত থেকে বাইরে এলো। মাছ কাঁদো কাঁদো গলায় ব্যাঙের কাছে রাতের সেই ভয়ংকর ঘটনা খুলে বললো।
মাছ ব্যাঙের কাছে বললো বন্ধু কাল রাতে এক রাক্ষুসে মাছ কোথা থেকে যেন বর্ষার পানির সাথে ভাসতে ভাসতে এই পুকুরে এসেছে।
আর সেই রাক্ষুসে মাছ কাল রাতে আমাদের জাতি ভাই, ছোট ছোট মাছগুলোকে ধরে খেয়ে ফেলছে।
বন্ধু যে কোন সময় এই রাক্ষুসে মাছ আমাদের কেও খেয়ে ফেলবে।
আমার জন্মের পরে এতো বড় রাক্ষুসে মাছ আমি কখন-ই দেখি নাই।
ওর মনে একটুও মায়া দয়া নেই।
সময় থাকতে আমাদেরকে জীবন নিয়ে এই পুকুর থেকে চলে যেতে হবে।
না হলে যে কোন সময় এই রাক্ষুসে মাছের পেটে যেতে হবে।
মাছের কাতর গলা শুনে ব্যাঙ বললো, বন্ধু এতো দিন ধরে এই পুকুরে এক সাথে আছি, কী করে এই পুকুর ছেড়ে চলে যাই বলতো?
তার চেয়ে, চলো দুজনে গর্তে লুকিয়ে থাকি, দেখি কয়েক দিন পরে পরিস্থিতি কি দাঁড়ায়।
একটা না একটা উপায় বের হবেই। মনে রেখ বন্ধু, যে তার নিজের জাতি ভাইয়ের ক্ষতি করে,মেরে ফেলে সে কখনও সফল হতে পারে না।
তুমি কয়েক দিন একটু কষ্ট করে রাতের বেলায় সাবধানে থেকো।
দেখতে দেখতে এভাবে আরো কয়েদিন কেটে গেলো। রোজ রাতের আঁধারে এভাবেই আরও অনেক ছোট-বড় মাছ খেয়ে ফেললো রাক্ষুসে মাছটা।
যে পুকুরে সব সময় শান্তি ছিলো, আজ সেই পুকুরে মৃত্যুর মিছিল। আজ রাতেও তান্ডব চালিয়েছে রাক্ষুসে মাছটা।
তবে আজকের সকালটা কয়েক দিনের চেয়ে একটু ভিন্ন। পুকুরের চার পাশ জুড়ে অনেক মানুষের ভিড়। অনেকে অনেক রকম কথা বলছে। মাছ ও ব্যাঙ ভয় পেয়ে গেলো। যে যার মতো করে গর্তে লুকিয়ে গেলো। একটু পরে ওরা লক্ষ্য করলো কয়েক জন মানুষ, কিছু একটা হাতে করে নিয়ে পানিতে নেমে পড়লো। পুরো পুকুরে সাঁতার কেটে এক ঘাট থেকে আর এক ঘাটে চলে এলো। হঠাৎ মানুষগুলোর চিৎকার শুনে আরও ভয় পেয়ে গেলো, মাছ ও ব্যাঙ। ওরা ভালো করে লক্ষ্য করলো তিন চারজন মানুষ মিলে ধরা-ধরি করে রাক্ষুসে মাছটাকে তীরে তুলে আনলো। এরপরে ছোট-ছোট মাছ গুলোকে ছেড়ে দেওয়া হলো। একটু পরে মানুষের ভিড় কমে গেল। দিনশেষে রাত এলো তবে আজকের রাতটা ঠিক আগের মতো শান্ত মনে হলো।একটু পরে বৃষ্টি এলো,ব্যাঙ মনের সুখে গান ধরলো। সেদিন রাতে মাছের কাছে ব্যাঙ বললো কি হলো বন্ধু?
একদিন না আমি তোমাকে বলছি যে তার নিজের জাতি ভাইয়ের ক্ষতি করে, সে কখনও ভালো থাকতে পারবে না। সে কখনও সফল হতে পারে না।
সেদিনের পর থেকে আবারও পুকুরে শান্তি ফিরে এলো।
মনের সুখে,ব্যাঙ ও মাছ বসবাস করতে লাগলো। আবার ও বর্ষা এলো নতুন পানি পেয়ে মনের সুখে ব্যাঙ গান ধরলো! আর সারা পুকুর-ময়  ঘুরে বেড়াতে লাগলো।