রজব মাস রমজানের প্রস্তুতির মাস

রজব মাস রমজানের প্রস্তুতির মাস

মোহাম্মদ মোস্তাকিম হোসাইন : আজ শুক্রবার ৭ই রজব হিজরী সালের তথা আরবী চন্দ্রবর্ষের সপ্তম মাস হচ্ছে শাহরু রজব। বারটি মাসের মধ্যে প্রতিটি মাসেরই গুরুত্ব রয়েছে। তাই কোন মাসকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। তবে রমজান মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত অত্যাধিক। রজব মাসের পূর্ণ নাম হলো আর রজব আর মুরাজ্জাব বা রজবুল মুরাজ্জাব। রজব অর্থ সম্ভ্রান্ত, প্রচুর্যময় মহান। মুরাজ্জাব অর্থ সম্মানিত, রজবে মুরাজ্জাব অর্থ হলো প্রাচুর্যময় সম্মানিত মাস। বারটি মাসের মধ্যে চারটি মাস অত্যাধিক গুরুত্বপূর্ণ। এই চারটি মাসের অন্যতম মাস হচ্ছে রজব। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে বিশ্বনবী সাইয়াদুল মোরছালিন রাসুলে করিম (স:) বলেন “আল্লাহ তাআলা আসমানি-জমিন সৃষ্টি করার দিন থেকেই বছর হয় বার মাসে। এর মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত জিলকদ, জিলহজ, মহরম এবং রজব মুদাব। যা জামাদলে উখরা ও শাবানের মধ্যবর্তী।বার মাসের মধ্যে রমজান মাস হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ঠ। ফজিলত ও বরকতের ঝর্ণাধারা প্রবাহিত এই রমজান মাসে। তাই রমজানের রহমত বরকত ও ফজিলত প্রাপ্তি লাভের জন্য বিশ্ব নবী (স.) রজব মাস থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণ করতেন এবং বেশি বেশি প্রার্থনা করে বলতেন “আল্লাহুমা বারিক লানা ফি রজব ওয়া শাবান ওয়া বাল্লিগনা রমাদান “অর্থাৎ হে আল্লাহ! রজব মাস ও শাবান মাস আমাদের জন্য বরকতময় করুন, রমজান আমাদের নসিব করুন (বোখারী)।
 
রজব ও শাবান হচ্ছে রমজানের অগ্রবর্তি মাস। তাই এই দুটি মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত রয়েছে অত্যাধিক, বিশেষ করে নফল ইবাদতের ক্ষেত্রে। নফল ইবাদতই মানুষকে তাকওয়ার স্বর্ণশিখরে পৌছে দেয়। শুধু ফরজ ইবাদত করে আল্লাহর ওলী বা বুজর্গ হওয়া যায় না। আল্লাহর নেক বান্দা তথা ওলী আওলীয়াগণ ফরজ ইবাদতের সাথে সাথে নফল ইবাদত বন্দেগীর প্রতিবেশি গুরুত্ব দিতেন। হাদীস শরিফে আছে রাসুল (স:) বলেছেন রজব হলো আল্লাহর মাস, শাবান হলো আমার (নবীজির) মাস, আর রমজান হলো আমার উম্মাতের মাস (তিরমীজি শরিফ)। রজব মাস আসলেই ইবাদতের মৌসুম শুরু হতো। এ প্রসঙ্গে রাসুলে করিম (স:) বলেছেন যারা রজব মাসে জমি চাষ দেবে না, শাবান মাসে বীজ বপন করবে না, তারা রমজানের ফল লাভ করতে পারবে না। মনে রাখতে হবে জমি চাষ করে যেমন ফসলের জন্য প্রস্তুতি নিতে হয় তেমনি রমজানের ফজিলত নেকী অর্জনের জন্য রজব মাস থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। তাই ঈমানদার পরহেজগার বান্দারা সর্বদায় রমযানের অত্যাধিক নেকী অর্জনের প্রত্যাশায় রজব মাস থেকেই বেশি বেশী নফল ইবাদত শুরু করতেন। রজব মাসের একটি রাত অত্যাধিক গুরুত্বপূর্ণ যা লাইলাতুল মিরাজ নামে পরিচিত। মহানবী (স:) এবং জীবন ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হচ্ছে এই শবে মিরাজ। মিরাজ নিয়ে আলোচনা করব না। ২৬ রজব এ বিষয়ে আলোচনা উপস্থাপন করবো ইনশাআল্লাহ।
রজব মাসে বেশি বেশি নফল রোজা রাখা ভাল। বিশেষ করে প্রতি সোমবার, বৃহস্পতিবার, শুক্রবারসহ ১৩, ১৪, ১৫ তারিখ রোজা রাখা।

 বেশি বেশি নফল নামাজ, জিকির আজকার, তাহাজ্জত, ইশরাক, চাশত, আউওয়াবিন, তাহিয়্যাতুল অযু, দুখলুল মসজিদ, সালাতুত তাসবিহ নামাজ সহ বেশি বেশি দরুদ পড়া এবং বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করা অত্যন্ত পূণ্যের কাজ। মনে রাখতে হবে ইবাদত যা করবেন তা জীবিত অবস্থায় ও সুস্থ অবস্থায় করতে হবে। অন্যথায় মৃত্যু হলে আর সুযোগ হবে না। শাইখ মুহাম্মদ উছমান গনি তার একটি প্রবন্ধে উল্লেখ করেন যে হযরত সালমান ফারসি হতে বর্ণিত আছে রজব মাসের প্রথম তারিখে ১০ রাকাত এবং মাগরিব ও ইশার মাঝে দুই রাকাত করে ২০ রাকাত নফল নামাজের কথা উল্লেখ করেছেন। রজব মাসের ১৫ তারিখ ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়া মুস্তাহাব। তিনি শবে মিরাজের রাতে নফল নামাজ আদায়ের কথাও প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন। মনে রাখতে হবে নফল ইবাদত যত বেশি করা যায় ততই ভাল। পরিশেষে বলা যায় রজব মাস ও শাবান মাস হলো রমজানের প্রস্তুতির মাস। রমজানে সেহেতু ইবাদতের সময়সূচিতে অনেক পরিবর্তন হয়। সেহেতু প্রস্তুতি নিতে হবে সেভাবেই। রমজানে রয়েছে ইত্তেকাফ ও শবে ক্বদর তার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণ অতীব জরুরী বলে আমরা মনে করি। মহান আল্লাহ আমাদেরকে সুস্থ শরীরে যাবতীয় ইবাদত বন্দেগী পালনের তৈফিক দান করুন। আমিন
লেখক : ইসলামী গবেষক, কলামিষ্ট ও প্রাবন্ধিক।
mostakimbogra@gmail.com
০১৭১২-৭৭৭০৫৮