রংপুরে চাষিরা চা চাষ করে লাভবান হচ্ছে

রংপুরে চাষিরা চা চাষ  করে লাভবান হচ্ছে

রংপুর প্রতিনিধি : রংপুরের অনুর্বর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে চা চাষ করা হচ্ছে। পরিত্যক্ত জমিতে চা চাষ করে লাভবান হচ্ছে চা চাষিরা। চা লাভজনক হওয়ায় অল্প পরিমান জমিতে চা চাষ শুরু করা হয়েছিল। পরে সফলতা আসায় বর্কমানে তা বৃদ্ধি পেয়েছে। রংপুরের তারাগঞ্জ ও মিঠাপুকুর উপজেলায় এই চা চাষ করছেন চাষিরা। তারাগঞ্জ উপজেলায় ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে বাণ্যিজিক ভাবে চা চাষ শুরু হয়েছে।    

ইকরচালী বালাপাড়া গ্রামে ২০১৫ সালে পরীক্ষামূলকভাবে দেড় একর জমিতে চায়ের চারাগাছ লাগানো হয়। লাগানো পর থেকে চা পাতা সংগ্রহের উপযোগী হওয়া পর্যন্ত সময় লেগেছে প্রায় এক বছর, এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা। প্রথমে বাগান থেকে সংগ্রহ করা হয় ৩ হাজার  ২শত ২৪ কেজি চায়ের কঁচি পাতা। যার মূল্য প্রায় ১০ লক্ষ  টাকা। বর্তমানে তারাগঞ্জ উপজেলা ও পাশর্^বর্তী কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ৯ একরের ২টি চা বাগান আছে। দুই বাগান থেকে প্রতি বছর আট থেকে নয় বার চা পাতা সংগ্রহ করা হয়। প্রতিবার সংগ্রহ হয় ১৯ হাজার ৩ শত ৭০ কেজি। এই চা পাতা ৩০ থেকে ৩৫ টাকা দরে ক্রয় করে নর্থ বেঙ্গল সেন্ট্রাল টি ইন্ডাস্ট্রিজ নামের প্রতিষ্ঠান।
সিন্হা এগ্রো বেইজড্ ইন্ডাস্ট্রিজ রিফাত হোসেনে জানান, আমারা পরীক্ষামূলকভাবে চা উৎপাদন শুরু করেছি। এখানকার চা বাগানের উৎপাদিত পাতা মান সম্পন্ন। কিশোরগঞ্জ চা বোর্ডের কর্মকর্তরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করছেন।  কিশোরগঞ্জ চা বোর্ডের কর্মকর্তা জামেদ ইসলাম সিদ্দিকি জানান, চা চাষ সহজ ও লাভ জনক। যেসব জমিতে অন্য কোনো ফসল হয় না সেসব জমিতে সহজেই চা চাষ কারা যায়।

 তারাগঞ্জের বালাপাড়া ও কিশোরগঞ্জের বাহাগিলীতে চায়ের চাষ দেখে এখন অনেক যুবক চা চাষে ঝুকছে। আমরা তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি বলে জানান তিনি। রংপুর বিভাগে, রংপুর, পঞ্চপড়, ঠাকুরগাঁও নীলফামারী, লালমনিরহাট চা চাষ সম্প্রসারণ হচ্ছে। এসব এলাকায় ৬ হাজার একর জমিতে চার বাগান আছে। তিন হাজার চাষি চা চাষের সাথে জড়িত। তিনি বলেন, এই অঞ্চলে ক্ষুদ্র চা বাগান ৮টি মাঝারি ১২টি বাগান রয়েছেন। কারখানা রয়েছে ১৩টি। রংপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ পরচালক ড, সারোয়ারুল হক জানান, রংপুর বিভাগের পঞ্চগড় ও লালমনির হাট জেলায় ব্যাপকভাবে চা চাষ করা হচ্ছে।