রংপুরে খাবার সুবিধা চালু হওয়ায় বাড়ছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি

রংপুরে খাবার সুবিধা চালু হওয়ায় বাড়ছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি

হুমায়ুন কবীর মানিক, রংপুর জেলা প্রতিনিধি : প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি, ঝরেপড়া রোধ ও স্কুলমুখী করতে রংপুর বিভাগের ৮ জেলার  ৫৮ উপজেলায় মিড ডে মিল কার্যক্রম চালু রয়েছে। গত এক বছর থেকে এই বিভাগে প্রায় ১৯ হাজার ২৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মিড ডে মিলের খাবার গ্রহণের সুবিধা পাচ্ছে। উপজেলা শিক্ষা অফিস, শিক্ষকবৃন্দ অভিভাবকদের স্ব-উদ্যোগে মিড ডে মিলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এতে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেড়েছে ও  ঝরেপড়া রোধ কমে গেছে। শিক্ষার্থীদের মাঝে দুপুরে রান্না করা খাবার পরিবেশনের চিন্তা থাকলেও সময়ের অপচয় এবং শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নষ্ট হবে- এমন চিন্তা করে এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। রান্না করা খাবারের পরিবর্তে সারাদেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে ডিম-কলা অথবা ডিম-রুটি দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

রংপুর বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, সরকারের স্কুল ফিডিং কার্যক্রমের আওতায় বিস্কুট কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী প্রতি আট টাকা করে খরচ হয়। রান্না করা খাবার দেয়া হলে এ খরচ দাঁড়াবে ১৮ টাকায়। আর ডিম-কলা অথবা ডিম-রুটি দিলে ২০ থেকে ২২ টাকার মতো ব্যয় হবে। জাতীয় স্কুল মিল নীতি অনুযায়ী, একজন শিশুর দৈনিক শক্তির চাহিদার ৩০ শতাংশ এবং পুষ্টি চাহিদার ৫০ শতাংশ স্কুলের খাবারে নিশ্চিত করা হবে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির আওতায় ২০১০ সালে স্কুল শিক্ষার্থীদের বিস্কুট দেয়ার কর্মসূচি শুরু হয়।

রাধানগর মন্ডলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গর্ভনিং বডির সভাপতি ইদ্রিস আলী মন্ডল জানান, সরকারিভাবে প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল খাবার সুবিধা থাকার কারণে গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের বাচ্চারা সুবিধা পাচ্ছে।রংপুর বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল ওয়াহাব জানান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সহায়তায় রান্না করা খাবার তৈরি করতে হচ্ছে। বাড়তি এ কাজের চাপে রুটিন অনুযায়ী সব ক্লাস করানো অসম্ভব হয়ে পড়ে শিক্ষকদের। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরও পড়ালেখায় ব্যাঘাত ঘটে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে স্কুল ফিডিং বা মিড ডে মিল হিসেবে রান্না করা খাবার দেয়ার সিদ্ধান্ত থেকে আমরা সরে আসার চিন্তা করছি। এর পরিবর্তে সপ্তাহে তিনদিন সিদ্ধ ডিম-কলা, বাকি দিনগুলো ডিম-রুটি দেয়া হচ্ছে।