রংপুরে আশার আলো দেখাচ্ছে সদ্য নির্মিত জৈব সার উৎপাদন কেন্দ্র

রংপুরে আশার আলো দেখাচ্ছে সদ্য নির্মিত জৈব সার উৎপাদন কেন্দ্র

রংপুর জেলা প্রতিনিধি : প্রতিদিন সৃষ্ট প্রায় ১শ টন ময়লা আবর্জনায় (বর্জ্য) নাকাল রংপুর সিটি করপোরেশনবাসীকে আশার আলো  দেখাচ্ছে সদ্য নির্মিত জৈব সার উৎপাদন  কেন্দ্রটি। প্রতিদিন ১৬ টন  জৈব বর্জ্যকে ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জৈব সারে পরিণত করা হবে। এতে  বায়ুমন্ডলে প্রায় ৮ টন কার্বন হ্রাসের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুবিধা পাওয়া সম্ভব হবে বলে প্লান্ট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানটি আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। এছাড়াও উচ্ছিষ্ট ময়লা আবর্জনা থেকে উৎপাদিত সার বিক্রির মাধ্যমে কিছু  বেকার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। যদিও ইতোমধ্যে অনেকে সার উৎপাদনে কাজ শুরু করেছে।

পরিবেশ অধিদফতরের সিডিএম প্রকল্পের আওতায় রংপুর সিটি করপোরেশনের বীরভদ্র নাছনিয়া এলাকায় ১ দশমিক ৭৮ একর জমিতে ২  কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে  গত বছর জৈব সার উৎপাদন  কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে এটি সিটি করপোরেশনের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে এবং অপারেটের দায়িত্ব পেয়েছে মাটি অর্গানিকস্ লিঃ নামে একটি  বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।  জৈব সার উৎপাদন  কেন্দ্রটি ঘুরে দেখা গেছে,  এপ্রোন পরিহিত ১৫ জন নারী কর্মী   কেউ বর্জ্যরে স্তুপ  থেকে জৈব বর্জ্য আলাদা করছেন।  আবার  কেউ কাঙ্খিত বর্জ্য ভিতরে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক  চেম্বারে জমা করছেন। প্রাইমারী  চেম্বার আছে ২৩ টি এবং পরিপক্ক(ম্যাচিউর)   চেম্বার আছে ৪টি। জৈব সার তৈরির প্রথম পর্যায় বর্জ্য প্রাইমারী  চেম্বারে  নেয়া হয়। এখানে কিছুদিন রাখার পর তা কাঙ্খিত পর্যায়ে আছে কী না দেখার জন্য পরিপক্ক চেম্বারে  আনা হয়। এরোবিক ডিকম্পোজিশন এবং বায়োড্রায়িং পদ্ধতিতে  চেম্বার গুলোতে ৬ দিক  থেকে বাতাস  দেয়া হয়। প্রয়োজনে অতিরিক্ত বাতাস  দেয়ারও ব্যবস্থা আছে। এই পদ্ধতিতে বর্জ্যে থাকা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক মিথেন (কার্বন ডাই অক্সাইড  থেকে ২১ গুণ বেশি ক্ষতিকারক) পরিবর্তিত হয়ে অল্প পরিমাণে কার্বন ডাই অক্সাইড এবং পানি উৎপাদন করবে। তবে জৈব বর্জ্যতে নির্দিষ্ট পরিমাণ আর্দ্রতা না থাকলে কিছু পানি  দেয়া হয় । এই পদ্ধতিতে পরিবেশের ক্ষতিকারক সালফার ডাই অক্সাইড তৈরি হবে না।  শুরুতে পুরো প্রক্রিয়াতে ৪৫ দিনের মতো সময় লাগলেও তা আস্তে আস্তে  ৩০ দিনে নামিয়ে আনা হবে।    

মাটি অর্গানিকস্ লিঃ ব্যবস্থাপনা পরিচালক  মো. খায়রুল আলম ভুইয়া বলেন, ১  কেজি জৈব বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়  আনুমানিক ২শ গ্রাম জৈব সার পাওয়া যায়। তিনি বলেন, জৈব সার হচ্ছে মাটির খাবার আর রাসায়নিক সার হচ্ছে গাছের খাবার। তবে জৈব কার্বনের পরিমাণ শতকরা শূন্য দশমিক ৫ ভাগের নিচে হলে মরা মাটি। তখন রাসায়নিক সার ব্যবহার করেও গাছের উপকার হবে না। মূলত নাগরিক জীবনে  যে সব বর্জ্য উৎপাদন হয় এর মধ্যে জৈব বর্জ্য থাকে শতকরা ৬০  থেকে ৬৫ ভাগ এবং শতকরা ৩ দশমিক ৫ ভাগ থাকে পাতলা পলিথিন। এখন এই পাতলা পলিথিন জৈব বর্জ্যরে সাথে এমন ভাবে মিশ্রিত থাকছে  যে তা আলাদা করতে  লোকবল এবং সময়ও বেশি লাগছে। তবে     প্রযুক্তির মাধ্যমে এই ক্ষতিকারক পাতলা পলিথিন দিয়ে টাইলস তৈরি করা সম্ভব । যা বাগান এবং সড়কের  ফুটপাতের  সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে । এই প্রযুক্তি তার জানা আছে এখন বাস্তবায়নের জন্য ফান্ডের প্রয়োজন। আগামী ২০ দিনের মধ্যে ২০  কেজির বস্তায় জৈব সার বায়োজেন নামে বাজারে আনার সকল প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে।