রংপুর মেডিকেল কলেজে উপকরণ ক্রয়ে সোয়া ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ !

রংপুর মেডিকেল কলেজে উপকরণ ক্রয়ে সোয়া ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ !

রংপুর প্রতিনিধি : রংপুর মেডিকেল কলেজের ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে মালামাল ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ইকুইপমেন্ট অ্যান্ড আদারস ইন্সট্রুমেন্টসহ প্রায় ৫ কোটি টাকার উপকরণের দরপত্রে প্রতিটি পণ্যের মূল্য ৪ থেকে ৫গুণ বাড়িয়ে দিয়ে অতিরিক্ত বিল দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের একজন প্রতিনিধি বিষয়টি অবগত করলে টেন্ডার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষকে চিঠি দেয়া হয়েছে।অভিযোগে বলা হয়, টেন্ডারে অংশ গ্রহণকারী ৩টি কোম্পানির মধ্যে সর্বনি¤œ দরদাতা হিসেবে বেঙ্গল সায়েন্টিফিক এন্ড সার্জিকেল কোম্পানিকে কার্যাদেশ দেয়া হয়। রাতের আঁধারে দরপত্রে কাটাকাটি করে বেঙ্গল সায়েন্টিফিক এন্ড সার্জিকেল কোম্পানিকে সর্বনি¤œ দরদাতা বানানো হয়েছে।উপকরণ ক্রয় সম্পর্কে কোন কিছু না জানানোর কারণে টেন্ডার কমিটির সদস্য রংপুর সিভিল সার্জন জাকিরুল ইসলাম লেলিন ও জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি সহকারী কমিশনার অতীশ দশী চাকমা কোন কাগজ-পত্রে স্বাক্ষর করেননি। তাদের অভিযোগ, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। সে কারণে কোন কাগজ পত্রে তারা সই করেননি।

অভিযোগে জানা যায়, টেন্ডারে জেনারেল কোম্পানির দুই টন ক্ষমতা সম্পন্ন ৩২টি এসি কেনা হয়েছে। প্রতিটির মূল্য ২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। অথচ প্রকৃত বাজার মূল্য ৯০ হাজার টাকা। ইমমিনুসারি অ্যানালাইজারের ক্রয়মূল্য দেখানো হয়েছে এক কোটি টাকা। এর প্রকৃত বাজার মূল্য ২০ লাখ টাকা। বায়োকেমিস্ট্রি অ্যানালাইজার কেনা হয়েছে ৩ লাখ ৬৭ হাজার টাকায়। যার বাজার মূল্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। ডায়েটারমাই মেশিন ক্রয় মূল্য ২৫ লাখ টাকা। এর     
বাজার মূল্য ১০ লাখ টাকা। ভিডিও অ্যান্ডোসকোপ ক্রয়মূল্য এক কোটি ৩৭ লাখ টাকা। বর্তমানে এর মূল্য ৩৫ লাখ টাকা। আলট্রাসাউন্ড মেশিন ফর সাইথেরাপি টেন্ডারে ক্রয়মূল্য ১৪ লাখ ৬৬ হাজার ৫০০ টাকা। এর আসল মূল্য ৪ লাখ টাকা।

 শর্ট ওয়েভ ফর সাইথেরাপি ক্রয় করেছে ৬১ লাখ ২৫ হাজার টাকায়। যার বাজার মূল্য ১২ লাখ টাকা। বায়োলজিকেল মাইক্রোস্কোপ টেন্ডারে ক্রয়মূল্য এক লাখ ৫৫ হাজার টাকা। এর বাজার মূল্য ৫৫ হাজার টাকা। ইলেকট্রলেট অ্যানালাইজার ক্রয়মূল্য ৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা, যার বাজার মূল্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। এতে মোট ৩ কোটি ২৪ লাখ ৮৯ হাজার ৫শ’ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নূর ইসলাম বলেন, নিয়ম মেনে টেন্ডারের মাধ্যমে উপকরণ কেনা হয়েছে। টেন্ডার কমিটির পক্ষ থেকে কোনো দুর্নীতি করা হয়নি। একটি ২ টন এসির মূল্য কিভাবে ২লাখ ৬৪ হাজার টাকা হয় এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে অধ্যক্ষ বলেন, টেন্ডারের আগে মূল্য যাচাই কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।