রোজায় অফিস ৯টা থেকে সাড়ে ৩টা

যৌতুকের মিথ্যা মামলা করলে জেল-জরিমানা, কোটা নিয়ে কমিটি হচ্ছে শিগগিরই

যৌতুকের মিথ্যা মামলা করলে জেল-জরিমানা, কোটা নিয়ে কমিটি হচ্ছে শিগগিরই

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা অফিস : যৌতুক নিয়ে মিথ্যা মামলা করলে কারাদন্ড ও জরিমানার বিধান রেখে নতুন একটি আইনের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার তার কার্যালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে ‘যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮’ এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, খসড়া আইনে নতুন একটি বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

 যৌতুক নিয়ে মিথ্যা মামলা করলে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদন্ড বা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন। যৌতুক নিয়ে মিথ্যা মামলার জন্য আইনে এত দিন কোনো জেল বা জরিমানার বিধান ছিল না। শফিউল আলম জানান, ১৯৮০ সালে দ্য ডাউরি প্রহিবিশন অর্ডিন্যান্স করে সরকার। ১৯৮২, ১৯৮৪ ও ১৯৮৬ সালে অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে এর সংশোধন করা হয়। ওই অর্ডিনেন্সকে হালনাগাদ করতে নতুন করে আইন করা হচ্ছে। আগের যে প্রভিশনগুলো ছিল সেগুলো মোটামুটি একই রকম আছে।

সামান্য একটু পরিবর্তন করে এটাকে আনা হয়েছে। সাজা আগের মতো রাখা হলেও জরিমানার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। আগের অর্ডিনেন্সে যৌতুক দাবি, প্রদান ও গ্রহণের শাস্তি ছিল এক থেকে ৫ বছরের কারাদন্ড বা জরিমানা। এসব অপরাধের জন্য প্রস্তাবিত আইনে দন্ড আগের মতো রাখা হলেও জরিমানা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। জেল বা জরিমানা বা উভয় দন্ড দেওয়া যাবে। মিথ্যা মামলা সংক্রান্ত সাজার বিষয়ে বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তির ক্ষতি সাধনের অভিপ্রায়ে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই আইনের অধীনে মামলা বা অভিযোগ করার জন্য ন্যায্য বা আইনানুগ কারণ নেই জেনেও মামলা বা অভিযোগ দায়ের করেন বা করান তাহলে তিনি বা তারা অনধিক ৫ বছর মেয়াদের কারাদ- বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন।

কোটা নিয়ে কমিটি হচ্ছে শিগগিরই
সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল বা সংস্কারে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় শিগগিরই একটি কমিটি করবে বলে ‘আশা করছেন’ মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। তবে কত দিনের মধ্যে সেই কমিটি হতে পারে সে বিষয়ে কোনো ধারণা দিতে পারেননি মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এখনও কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।  সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে শফিউল বলেন, কোটা নিয়ে (সোমবারের মন্ত্রিসভা বৈঠকে) কোনো আলোচনা হয়নি, অগ্রগতিও নেই, যে অবস্থানে ছিল তাই (আছে)। কোটা পদ্ধতি বাতিল বা সংস্কারের জন্য কমিটি গঠনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের কাছে এখনও (কমিটি গঠনের প্রজ্ঞাপন) পৌঁছায়নি। আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে এটার অগ্রগতি আমাদের জানাতে বলেছি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে (কমিটির) প্রজ্ঞাপন জারি হলে আমাদের কাছে আসবে, আমরা তখন কমিটি নিয়ে বসব। কত দিনের মধ্যে সেই কমিটি হবে তার কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা নেই বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। প্রজ্ঞাপন শিগগিরিই জারি হবে কি না- এ প্রশ্নে শফিউল আলম বলেন, আশা করি, আশা করি। অনেক দিন বন্ধ ছিল এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে ছিলেন। কাজেই ওই বিষয়ে খুব বেশি কাজ আগায়নি।

তিনি বলেন, কমিটি গঠন হবে, বসবে। আলোচনা করে যেটা ভালো হয় সেটা করা হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কমিটি নিশ্চিত করবে।ৃ মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে কমিটি হবে। কমিটির বাকি সদস্য কারা হবে সেটা জনপ্রশাসন ঠিক করবে। কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে দৃশ্যত ক্ষুব্ধ শেখ হাসিনা গত ১১ এপ্রিল জাতীয় সংসদে বলেন, বারবার এই আন্দোলন ঝামেলা মিটাবার জন্য কোটা পদ্ধতি বাতিল; পরিষ্কার কথা; আমি এটাই মনে করি, সেটা হল বাতিল। কোটা নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি করার কথাও ওই দিন বলেন সরকারপ্রধান। বর্তমানে সরকারি চাকরিতে নিয়োগে ৫৬ শতাংশ পদ বিভিন্ন কোটার জন্য সংরক্ষিত; এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৩০ শতাংশ, নারী ১০ শতাংশ, জেলা ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ৫ শতাংশ, প্রতিবন্ধী ১ শতাংশ।

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী ‘ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ কোটার পরিমাণ ১০ শতাংশে কমিয়ে আনার দাবি তুলেছিল। কোটায় প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধা তালিকা থেকে তা পূরণের দাবিও জানিয়েছিল তারা। প্রধানমন্ত্রী কোটা বাতিলের কথা বলার পর তারা এখন সেই প্রজ্ঞাপন দ্রুত প্রকাশের দাবি জানাচ্ছে।  

রোজায় অফিস ৯টা থেকে সাড়ে ৩টা
প্রতি বছরের মতো এবারও রোজার মাসে সরকারি অফিস আদালতে কাজের সময় ঠিক করে দিয়েছে মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম জানিয়েছেন, এবার রোজায় সকাল ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত অফিসের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। বেলা সোয়া ১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত থাকবে জোহরের নামাজের বিরতি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে  সোমবার তার কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এই অফিসসূচি নির্ধারণ করা হয়। এমনিতে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সরকারি অফিসের কার্যক্রম চললেও রোজার সময় ইফতারের কথা মাথায় রেখে কর্মীদের বাড়ি ফেরার সুবিধার জন্য সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান রোজার সময় ৯টা-সাড়ে ৩টা সূচিতে চলবে। আর সুপ্রিম কোর্ট, ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী অফিসসূচি ঠিক করে নেবে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৭ মে রোজা শুরু হতে পারে। আর রোজার ঈদে সরকারি ছুটির সম্ভাব্য তারিখ রাখা হয়েছে ১৫ থেকে ১৭ জুন।