যুক্তরাষ্ট্রে কূটনীতিক বহিষ্কারে তীব্র প্রতিবাদ বেইজিংয়ের

যুক্তরাষ্ট্রে কূটনীতিক বহিষ্কারে তীব্র প্রতিবাদ বেইজিংয়ের

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত দুই চীনা কূটনীতিককে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে বহিষ্কার করেছিল মার্কিন প্রশাসন। এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বেইজিং। বলছে, চীনা কূটনীতিক বহিষ্কারে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন। তা সমাধান করতে হবে।


সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) চীনা পররাষ্ট মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গেং শুয়াং এর প্রতিবাদ জানান। এর আগে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে প্রবেশ করে গুপ্তচরবৃত্তি করেছেন বলে অভিযোগ এনে এ বছরের সেপ্টেম্বরে খুব গোপনীয়ভাবে তাদের বহিষ্কার করে ট্রাম্প প্রশাসন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসে গেং শুয়াং বলেন, কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী আমরা জোর দিয়ে বলছি, মার্কিন সরকার যেন এই ভুল সংশোধন করে নেয়। এতে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক রক্ষা হবে।

এ কূটনীতিক এও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত সব কূটনীতিকের প্রতি ভালো আচরণ করা। তাদের অধিকারের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া।

রোববার (১৫ ডিসেম্বর) নিউইয়র্ক টাইমস একটি প্রতিবেদনে চীনা দুই কূটনীতিক বহিষ্কারের বিষয়টি প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, নিরাপত্তা ব্যবস্থা লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যেল সামরিক ঘাঁটিতে গিয়েছিলেন দুই চীনা কূটনীতিক। সেখানে প্রবেশে বাধা দেওয়া হলেও প্রথমে তারা শুনেননি। পরে এক রকম জোর করে তাদের আটকানো হয়। পরে জানা যায়, দুই কূটনীতিকের একজন মূলত গোয়েন্দা কর্মকর্তা, যিনি গুপ্তচরবৃত্তির লক্ষ্যে দূতাবাসে কাজ করেন।

অবশ্য ওই কূটনীতিকদের দাবি, প্রবেশমুখে থাকা মার্কিন সেনা কর্মকর্তাদের নির্দেশ বুঝতে পারেননি তারা। যদিও তাদের এ কথায় সন্তুষ্ট হতে পারেনি ওয়াশিংটন। কর্মকর্তাদের অভিযোগ, দুই কূটনীতিক সামরিক ঘাঁটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা করতে গিয়েছিলেন।

এদিকে, গত ৩০ বছরে এই প্রথম গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে চীনা কূটনীতিকদের বহিষ্কার করেছে মার্কিন সরকার।

অপরদিকে, দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যযুদ্ধ চলছে বৃহত্তম অর্থনীতিতে সমৃদ্ধ এই দুই দেশের মধ্যে। অবশ্য সম্প্রতি এ অচলাবস্থা নিরসনে কাজ করছেন মার্কিন ও চীনা কর্মকাতারা। ইতোমধ্যে উভয় দেশ বেশকিছু পণ্যে নিষেধাজ্ঞা বা শুল্ক আরোপ তুলে নিয়েছে। গত শুক্রবারও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি পণ্যে শুল্ক আরোপ স্থগিত করে বেইজিং।