যানজটে বিপুল আর্থিক ক্ষতি

যানজটে বিপুল আর্থিক ক্ষতি

রাজধানীতে দুর্ঘটনায় ৭৪ ভাগ ঘটে সড়ক পারাপারে। আর যানজটে প্রতিদিন নষ্ট হয় ৫০ লাখ কর্মঘন্টা। বছরে আর্থিক ক্ষতি হয় ৩৭ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই) প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। গত শনিবার বুয়েটে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকে এ প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয় ঢাকা শহরে প্রতিদিন গণপরিবহণগুলো ৩৬ লাখ ট্রিপ দেয়। এসব গণপরিবহণের ৩৫ শতাংশ যাত্রী যায় কর্মক্ষেত্রে। ঢাকায় ৮০ শতাংশ গণপরিবহণই ইঞ্জিন চালিত। যানজটের কারণে ব্যস্ত সময়ে গণপরিবহণের গতিবেগ ঘন্টায় পাঁচ কিলোমিটার নেমে আসে, যা হাঁটাগতির চেয়েও কম। নগরের যানজট যদি ৬০ শতাংশ কমানো যায়, তাহলে ২২ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। রাজধানীতে যানজটের প্রধান কারণ হিসেবে ধরে নেওয়া যেতে পারে রাস্তার স্বল্পতা।

একটি মোটামুটি উন্নত শহরের জন্য পঁচিশ শতাংশ ভালো সড়ক প্রয়োজন। বাংলাদেশে রয়েছে ৭.৮ শতাংশ। যানজটের কারণে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট সময়ের অনেক আগে ঘর থেকে বের হতে হয়। অর্থনৈতিকভাবেও বড় ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। নিয়ন্ত্রণহীন ছোটগাড়ি, পর্যাপ্ত বাস ও ট্রাক টার্মিনালের অভাব, যেখানে-সেখানে ব্যক্তিগত গাড়ি রেখে সড়কের জায়গা দখল ইত্যাদি কারণে ঢাকায় যানজট বেড়েছে। যানজটে যেমন সময়ের অপচয় হচ্ছে, তেমনি ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন। কমছে কাজের গতি। দিনে দিনে যেন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ছে রাজধানী ঢাকা। অথচ বাংলাদেশে দিনে দিনে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটছে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে রপ্তানি নির্ভর হচ্ছে দেশ। এ অবস্থায় রাজধানীর যানজট অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় বড় প্রতিবন্ধক হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে এখনই নতুন করে ভাবতে হবে। মেট্রো রেল চালু হলে হয়তো সড়কের ওপর চাপ কমবে। কিন্তু এখন যে অবস্থা রয়েছে, তাতে শিগগিরই এ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি মিলছে না। এখনো সময় আছে। পরিকল্পিত ব্যবস্থায় রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব বলে আমরা  মনে করি।