যশোরে বন্দী ৪ বাকপ্রতিবন্ধীর স্বজনদের সন্ধান মিলছে না

যশোর প্রতিনিধি : যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে বন্দী চার বাক প্রতিবন্ধীর স্বজনদের সন্ধান মিলছে না। পাওয়া যাচ্ছে না তাদের পরিবারের ঠিকানা। এ কারণে এদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা যাচ্ছে না।লালমনিরহাট থেকে আসা রুবেল (১১)। সে শুধু পিতার নাম মক্কেল উদ্দিন লিখতে পারে। সে নাচ, ক্রিকেট ও ফুটবল খেলায় পারদর্শী। কথা বলতে পারে না। গোপালগঞ্জ থেকে আসা ছেলে শিশুটিও (১৫) বাকপ্রতিবন্ধী। মুখে আওয়াজ করলেও কথা স্পষ্ট নয়। তবে কুচকাওয়াজে সে পারদর্শী। আকাশে বিমান কিংবা হেলিকপ্টার উড়তে দেখলে সালাম দিয়ে সম্মান জানায়। মাগুরা থেকে আসা নাঈম (১৫) কেন্দ্রে আসার পর তার নামকরণ হয়েছে। সেটি আসল নাম নয়। অল্প কথা বলতে পারে। কিন্তু তার কথা স্পষ্ট নয়। পরিবারের ঠিকানাও বলতে পারে না। নওগাঁ থেকে আসা ছেলে শিশুটি (১২) ভাঙা ভাঙা কণ্ঠে কথা বলতে পারে। পরিবারের ঠিকানা তার জানা নেই।

দেশের চারটি জেলা থেকে আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে এই চার শিশুকে যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে নিরাপদ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। দুই শতাধিক বন্দীর সাথে তারা রয়েছে। কোন অপরাধের অভিযোগ না থাকলেও শুধু স্বজনের সন্ধানের অভাবেই তারা বন্দী জীবনযাপন করছে।শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ বিপাকে পড়েছেন এই চার বাক প্রতিবন্ধী শিশুকে নিয়ে। কেন্দ্রের সাইকো সোস্যাল কাউন্সিলর মুসফিকুর রহমান বলেন, বাকপ্রতিন্ধী শিশুরা অন্য শিশুদের সাথে থাকায় মানসিকভাবে তাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তাদের পরিবারের কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে রাখলে মানসিকভাবে সুরক্ষা পাবে। তবে পরিবার হলো সবচেয়ে নিরাপদ স্থান। শিশুদের পরিবারে ফেরাতে পারলে তারা আরও নিরাপদ হতো।

ওই কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক মো: শাহাবুদ্দিন বলেন, এই চার শিশুকে আদালতের মাধ্যমে সহজেই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর সম্ভব। কিন্তু স্বজনদের নাম পরিচয় না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছি। পরিবারের লোকজনের সন্ধান পেলে তাদের হাতে তুলে দেব। যোগাযোগ করলে আইনী প্রক্রিয়ায় তাদের পরিবারে ফিরিয়ে দিতে পারব।যশোরের পুলেরহাটে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রটির (বালক) অবস্থান। কেন্দ্রটিতে এখন চার বিভাগের ৩৭টি জেলার দুই শতাধিক শিশু রয়েছে। তাদের বিভিন্ন মামলা, অজ্ঞাত উদ্ধার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে ব্যতিক্রম এই চার বাকপ্রতিবন্ধী।
যশোরের আইনজীবী সালেহা বেগম বলেন, পরিবারের সন্ধান পেলে তাদের স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দিতে আইনি সহায়তা দেয়া হবে। পরিবারের সন্ধানে মিডিয়ার সহযোগিতা প্রয়োজন।