যমুনার চরে ভুট্টা চাষে কৃষকের ভাগ্য বদলের লড়াই

যমুনার চরে ভুট্টা চাষে কৃষকের ভাগ্য বদলের লড়াই

রফিকুল আলম, ধুনট (বগুড়া) : স্বল্প সেচের ফসল চরের মাটিতে চাষের চিন্তা করতে হয় কৃষকের। ভুট্টাও তেমন একটি ফসল। ভুট্টার জমিতে সেচ কম দিতে হয়। ফলনও বেশ ভাল হয়। প্রায় সময়ই বাজারে দাম ভাল থাকে এ ফসলের। ধান চাষের তুলনায় অনেকটা লাভজনক।জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায় ভুট্টার ফল বাদে বাকি অংশ। গো-খাদ্যের জন্য উপযুক্ত ভুট্টার গাছ। অন্য ফসলের সঙ্গে সাথী ফসল হিসেবে চাষ করা যায় এ ভুট্টা। রোগবালাই তেমন একটা নেই। মানুষের নানা ধরনের খাদ্য ও শিল্পজাত ছাড়াও বহুবিধ কাজে ব্যবহার হয়ে থাকে এ ফসল। সবমিলিয়ে ভুট্টাতেই ভাগ্য বদলাতে চান চরাঞ্চলের কৃষকরা। সরেজমিন বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনা চরের কৃষকের সাথে কথা হলে এসব তথ্য পাওয়া যায়। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে যমুনার চরে প্রায় ২ হাজার বিঘা জমিতে ভুট্টা লাগানো হয়েছে। বিঘার পর বিঘা জমি ছেয়ে যাচ্ছে সবুজে। গাছ গুলো বড় হয়ে উঠছে। আগামভাবে লাগানো খেতের ভুট্টায় মোচা ধরছে।

বৈশাখী চরের লিয়াকত আলী জানান, প্রায় ৮ বছর আগ থেকে চরাঞ্চলের কৃষক অল্প অল্প করে ভুট্টার আবাদ শুরু করেন। সময়ের ব্যবধানে চাষের জমির পরিধি বাড়িয়ে নেন তারা। সেই ধারাবাহিকতায় এ বছরও চরের অনেক জমিতে ভুট্টা চাষ করেছেন চরাঞ্চলের চাষিরা। রাধানগর চরের এলাহী বক্স জানান, চরের মাটি বেলে যুক্ত। পানি ধরে রাখতে পারে না। ফসলের জমিতে পানি দিতে না পারলে ফসল ভাল হয় না। তবে ভুট্টার জমিতে খুব একটা সেচের প্রয়োজন হয় না। ধানের তুলনায় এ ফসল চাষও অনেকটা সহজ। এছাড়া ব্যবসায়ীদের কাছে চরাঞ্চলের ভুট্টার চাহিদাও ভাল। এ কারণে বিক্রি করতেও সমস্যা হয় না।

পুকুরিয়া চরের হযরত আলী বলেন, চরাঞ্চলে উৎপাদিত ভুট্টার দানা অত্যন্ত পুষ্ট হয়। দানাও বেশ বড় হয়। চরের তপ্ত বেলে মাটির ওপর বিশেষভাবে নেট ফেলে তার ওপর ভুট্টা শুকানো হয়। এতে ভুট্টার দানা অত্যন্ত শক্ত হয়। ফলে চরের ভুট্টা উঠতেই বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা এসব এলাকায় ব্যাপারী পাঠিয়ে দেন।
নিউসারিয়াকান্দি চরের সাবান মিয়া জানান, প্রতি বিঘার বিপরীতে তাদের খরচ হবে সর্বোচ্চ ৮ হাজার টাকা। এরমধ্যে বীজ, সার, পানি, জমি প্রিস্তুত, লাগানো, শ্রমিক মজুরি, কাটা-মাড়াইসহ আনুষাঙ্গিক খরচ রয়েছে। প্রতিবিঘায় উৎপাদন হয় গড়ে ২৫-৩০ মণ হারে। প্রতিমণ ভুট্টা বিক্রি হবে কমপক্ষে ৭৫০-৮০০ টাকা মণ করে বলেও জানান এসব চাষিরা। ধুনট    উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস ছোবাহান বলেন, ভুট্টা চাষে চারাঞ্চলের কৃষক আশায় বুক বেধেছে। ভুট্টার আবাদ উঠতে মোটামোটি ১১০ দিনের মতো সময় লাগে। তুলনামূলক স্বল্প খরচে এ ফসল চাষ করা যায়। লাভ বেশি হয়। এছাড়া সেচ কম লাগে। তাই চরের কৃষকের কাছে ভুট্টা চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।