মে’র প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত

মে’র প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত

মে মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত কোটা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন স্থগিত করা হয়েছে। সোমবার (০৯ এপ্রিল) বিকেলে সচিবালয়ে বৈঠক শেষে এ কথা জানানো হয়।

এর আগে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের আন্দোলন সংঘাতের রূপ পাওয়ার পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে সচিবালয়ে সমঝোতা বৈঠক বসেছে।

সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টায় সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ বৈঠক শুরু হয় বলে সেতু বিভাগের জনসংযোগ কর্মকর্তা ওয়ালিদ ফয়েজ জানিয়েছেন।

‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ ব্যানারে আন্দোলনরতদের পক্ষে এই বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন দশজন ছাত্র ও দশজন ছাত্রী।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষে দলের সাধারণ সম্পাদক সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ ও জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, এনামুল হক শামীম ও খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য এস এম কামাল হোসেন এবং উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়ার পাশাপাশি ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার আছাদুজ্জামন মিয়াও আছেন এ বৈঠকে।

এই বৈঠক শুরু আগে দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে দেশব্যাপী শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবে, দেখে এটা অবহিত করবে।

বর্তমানে দেশে পাঁচ শতাংশ কোটা রাখা হয়েছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য। প্রতিবন্ধী এক শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৩০ শতাংশ, নারী ও জেলা কোটা ১০ শতাংশ করে। সব মিলিয়ে কোটার জন্য বরাদ্দ ৫৬ শতাংশ। ফলে এর কোনো শ্রেণিতে যারা পড়েন না, তাদের প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে বাকি ৪৪ শতাংশের জন্য।

এই পদ্ধতি সংস্কারের পাঁচ দফা দাবিতে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ এর ব্যানারে আন্দোলন চালিয়ে আসছে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা।

তাদের দাবিগুলো হল- সরকারি নিয়োগে কোটার পরিমাণ ৫৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা, কোটার যোগ্য প্রার্থী না পেলে শূন্যপদে মেধায় নিয়োগ, কোটায় কোনো ধরনের বিশেষ নিয়োগ পরীক্ষা না নেওয়া, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে অভিন্ন বয়সসীমা, নিয়োগপরীক্ষায় একাধিকবার কোটার সুবিধা ব্যবহার না করা।

আন্দোলনরতরা রোববার শাহবাগ মোড় চার ঘণ্টা অবরোধ করে রাখার পর পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করে এবং রাবার বুলেট-কাঁদুনে গ্যাস ছুড়ে সরিয়ে দেয়। কিন্তু এরপর বিক্ষোভ আর সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে পুরো ক্যাম্পাসে।

রাত দেড়টা থেকে ২টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে হামলা চালিয়ে ভ্যাপক ভাঙচুর করা হয়। টিএসসিসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও ছাত্রলীগ কর্মীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ চলে রাতভর।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সোমবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। ওই বিক্ষোভ থেকেই দুপুরে তাদের মুখপাত্র হাসান আল মামুন সেতুমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান।

তিনি বলেন, “আমাদের মধ্যে থেকে ১০ জন ছেলে ও ১০ জন মেয়ে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে কথা বলতে। আমরা বৈঠক করে এসে সিদ্ধান্ত জানাব। তার আগ পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার আগে হাসান আল মামুন বাংলা একডেমির সামনে গিয়ে সেখানে অবস্থান নিয়ে থাকা পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি অনুরোধ করেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যেন পুলিশ আর টিয়ারশেল না ছোড়ে বা ধাওয়া না দেয়।

এরপর রাজু ভাস্কর্যের কাছে আন্দোলনকারীদের অবস্থানে এসে তিনি বলেন, “আমরা পুলিশকে অনুরোধ করেছি আমাদের দিকে হামলা না চালাতে। আপনারাও পুলিশের দিকে কোনো ঢিল ছুড়বেন না।

“সেটা করলে আমরা যারা নেতৃত্ব দিচ্ছি, আমাদের জীবন হুমকিতে পড়বে, আমাদের জীবনটা নষ্ট করবেন না। আপনারা সীমা অতিক্রম করবেন না। আমরা বৈঠক শেষে ফিরে এসে সিদ্ধান্ত জানাব। আপনারা ততক্ষণ আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।”