মৃত্যু ঝুঁকিতেও বন্ধ হচ্ছে না মানব পাচার

মৃত্যু ঝুঁকিতেও বন্ধ হচ্ছে না মানব পাচার

বিয়ে করে সংসার পাততেই দল বেঁধে মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন রোহিঙ্গা তরুণীরা। এমনটি জানিয়েছেন কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন সাগরের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশে ট্রলার ডুবির ঘটনায় উদ্ধার হওয়া বেশ কয়েকজন তরুণী। কক্সবাজারের টেকনাফের বঙ্গোপসাগরে সোমবার গভীর রাতে ট্রলার ডুবির ওই ঘটনায় অন্তত ১৫ রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়। সাগর থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও নিখোঁজ অন্তত ৫২ জন। তাদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী। মর্মান্তিক ওই ঘটনায় দুই দালালকে বোট থেকে আটক করা হয়েছে। কোস্টগার্ড সূত্র জানায়, ১৩৮ জনের মধ্যে নিখোঁজ ৫২ জন। উদ্ধার হওয়া এসব রোহিঙ্গা তরুণীর সঙ্গে রয়েছে কিছু বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তাও। তাদের মধ্যে নুরবানু ও ছলেমা খাতুন বলেন, কোনো একটা কাজে যোগ দিয়ে সন্তানও নিজেদের সামনের দিনগুলো সুন্দর করার আশায় আমরা ট্্রলারে মালয়েশিয়ায় পৌছাতে চেষ্টা করেছিলাম। এভাবে মাঝ সাগরে ট্রলার ডুবে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হবে কল্পনাও করিনি। ডুবে যাওয়া ট্রলারে ১২০ থেকে ১২৫ নারী-পুরুষ ও শিশু ছিল।

প্রশাসনিক কড়াকড়িতে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলেও ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে সাগর পথে মালয়েশিয়ায় মানব পাচার চক্র। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে সোমবার রাতে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া ট্রলারটি ডুবে যায়। এতে ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ৭১ জনকে। উদ্ধার ও নিহতদের অধিকাংশই নারী। যাদের সিংহভাগই তরুণী। কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী, বিজিবি ও সেন্টমার্টিন বোট মালিক সমিতির পাশাপাশি উদ্ধার কাজে যোগ দিয়েছে বিমান বাহিনীর দুটি হেলিকপ্টারও। মানব পাচার নি:সন্দেহে এক জঘন্য অপরাধ। অপরাধীরা সরল সহজ অসহায় মানুষকে শুধু প্রতারিত করছে না, দেশের সুনামের জন্য বিড়ম্বনা ডেকে আনছে। মালয়েশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের শ্রমবাজার নষ্ট হওয়ার পেছনে মানবপাচারের ঘটনা অনেকাংশে দায়ী। আমরা আশা করব সাগর পথে মানব পাচার রোধে অপরাধীদের শক্ত হাতে ধরার উদ্যোগ নিতে হবে।