মিয়ানমারের সুমতি হোক

মিয়ানমারের সুমতি হোক

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হচ্ছে আগামী মঙ্গলবার। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী আপাতত প্রতি সপ্তাহে এক হাজার ৫০০ রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার। দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়া হবে। কিন্তু এর মধ্যে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে অনুপ্রবেশ করছে রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশু। গত বুধ ও বৃহস্পতিবার ভোরে শাহপরীর দ্বীপ পয়েন্ট দিয়ে আসা আড়াই শতাধিক রোহিঙ্গা কুতুপালং ট্রানজিট ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সম্প্রতি দু’দেশের মধ্যে চুক্তি সম্পাদন হলেও মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। উগ্রপন্থি রাখাইনরা প্রত্যাবাসন বিরোধী মিছিল করেছে।

 ওই মিছিলে মিয়ানমারের বিজিপি বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে ১০ রাখাইন নিহত ও ১২ রাখাইন আহত হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে উগ্রপন্থী রাখাইন জনগোষ্ঠীরা ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে বলে গণমাধ্যম খবর দিয়েছে। আমরা আশা করব বিশ্ব সম্প্রদায় মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে যাতে রাখাইন রাজ্যে শান্তি ফিরে আসে। সে দেশের সরকারকেও এ ক্ষেত্রে সদিচ্ছার পরিচয় দিতে হবে। বাংলাদেশ চায় এমন একটি টেকসই সমাধান যা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে দেবে। এ জন্য রাখাইন নিরাপত্তার সকল ব্যবস্থা সুসম্পন্ন করতে হবে মিয়ানমার সরকারকে। মিয়ানমার নিজেদের জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান তথা নিরাপদ প্রত্যাবাসন ও নাগরিকত্বের সকল সুযোগ-সুবিধা প্রদান করবে- এমনটিই প্রত্যাশিত।