মিয়ানমারে গণহত্যা

মিয়ানমারে গণহত্যা

গণহত্যা, ধর্ষণের মতো গুরুতর সব অপরাধ অস্বীকার করেও জবাবদিহি এড়াতে পারছে না মিয়ানমার। জেনেভায় গত ২২ ফেব্রুয়ারি মানবাধিকার বিষয়ক দপ্তরে নারীর প্রতি বৈষম্য নির্মূল কমিটিতে (সিডিও) মিয়ানমার প্রতিনিধিদলকে এ সংক্রান্ত প্রশ্নবাণে জর্জরিত করা হয়েছে। সিডিও বিশেষজ্ঞদের প্রায় কোনো প্রশ্নেরই সদুত্তর দিতে পারেনি মিয়ানমারের প্রতিনিধিদল। এর আগে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন একে জাতিসত্তা নিধনের এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। এই গণহত্যার তথ্য প্রমাণ সংগ্রহে কাঠামো সৃষ্টির লক্ষ্যে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে সাংবিধানিক কোর্টে একটি প্রস্তাবও গৃহীত হয়েছে। এর ফলে আইসিসি বা অন্য কোনো ট্রাইব্যুনালে মিয়ানমারে গণহত্যার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের পথ প্রশস্ত হবে। গ্লোবাল জাস্টিস সেন্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সবাই সহিংসতার শিকার হয়েছে।

২০১৭ সালের আগস্ট মাসে নতুন করে নিধনযজ্ঞ শুরুর পর মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের ঢল নামে। তবে তারও এক বছর আগে ২০১৬ সালের আগস্ট মাসে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও পুলিশ রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে বর্বর সহিংসতা চালানো শুরু করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। রোহিঙ্গা গণহত্যা ও নিপীড়নের জোরালো অভিযোগ তুলে নিউইয়র্ক ভিত্তিক সেন্টার ফর রি-প্রডাকটিভ রাইটস, গ্লোবাল জাস্টিস সেন্টার, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও ফোরটিফাই রাইটস তাদের প্রতিবেদন সিডিও কমিটির কাছে জমা দিয়েছে। নাগরিকত্ব সহ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে হবে। নিরাপত্তা সহ তাদের মৌলিক অধিকারগুলোও নিশ্চিত করতে হবে। এর পাশাপাশি যারা গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত দ্রুত আন্তর্জাতিক আদালতে তাদের বিচারের উদ্যোগ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘকেই মূল ভূমিকা পালন করতে হবে।