মিয়ানমারে গণহত্যা

মিয়ানমারে গণহত্যা

মিয়ানমারের ধর্মীয় সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে দেশটির সেনাবাহিনীর অভিযানকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার আহবান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট সদস্যরা। বুধবার সিনেটে রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক সদস্যরা এই বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেকে দেওয়া চিঠিতে এ আহবান জানান। ওদিকে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইট ওয়াচ বলেছে, রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত অপরাধ তদন্তের বিষয়ে মিয়ানমার সরকারকে আরও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। সিনেটরদের ওই গ্রুপটি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বলেছে, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব প্রতিবেদনে গণহত্যার পরিষ্কার এ প্রমাণ উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

 চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘সন্ত্রাস’ ছড়ানো, তাড়িয়ে দেওয়া এবং রাখাইনের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নির্মূল করা- উত্তর রাখাইন রাজ্যের এসব সহিংসতা কোনো প্রশ্ন ছাড়াই গণহত্যার সংজ্ঞার সঙ্গে খাপ খায়, সিনেটরদের মতে, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর ওই পদক্ষেপকে আনুষ্ঠানিকভাবে গণহত্যা আখ্যা দিতে ব্যর্থ হওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য ‘সত্য বলা ও দায়িত্ব’ অস্বীকার করা হবে এবং মানবাধিকার, মর্যাদা ও জবাবদিহিতার প্রচার ও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে ‘কলংক লেপন’ করা হবে। এর আগে রোহিঙ্গা গণহত্যার তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহে কাঠামো সৃষ্টির লক্ষে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। ফলে শিগগিরই তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ, একীভূত করা, সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণের জন্য একটি কাঠামো সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। এর ফলে আইসিসি বা অন্য কোনো ট্রাইব্যুনালে মিয়ানমারে গণহত্যার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের পথ সুগম হবে। আমরা বুঝতে পারছি যে, রোহিঙ্গাদের গণহত্যার দায়ে মিয়ানমারের সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের যুদ্ধাপরাধী হিসেবে আইসিসিতে বিচার করা সম্ভব। এখন প্রয়োজন সেখানে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা। এটা আমাদের সরকারের তরফ থেকে করতে হবে এবং জলদিই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য সরকারের নীতি নির্ধারকদের ভাবতে হবে।