মিতুরা যেন রেহাই না পায়

মিতুরা যেন রেহাই না পায়

নাজমুল হোসেন : মানুষের চরিত্র যখন একেবারে নষ্ট হয়ে যায় তখন নৈতিকতা, সামাজিকতা ও বিবেকবোধ লোপ পেয়ে শূন্যের কোটায় চলে যায়। আর এমনই চিত্র দৃশ্যমান হয়েছে তানজিলা হক মিতুর মাঝে। পরিবারের আশকারা পেয়েই সে গোল্লায় গিয়েছে। গত ৩১ জানুয়ারি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডের তরুণ ডাক্তার মোস্তফা মুর্শেদ আকাশ ধমনীতে ইনসুলিন ইনজেকশন পুশ করে আত্মহত্যা করেছেন। দীর্ঘদিনের ভালবাসা ঘটিত সম্পর্কের পরিণতিতে বিয়ে করেছিলেন মিতুকে। কিন্তু বিয়ের আগে স্ত্রী মিতু যতটা নিচু চরিত্রের ছিল বিয়ের পরে তার এতটুকু পরিবর্তন হয়নি। অবাধে পরকীয়া প্রেমে আসক্ত হয়ে একের পর এক ছেলের সাথে হোটেলে রাত কাটানো, বেপরোয়া আড্ডা দেয়া, ঘুরে বেড়ানো একটি সহজ ব্যাপার ছিল তার কাছে। বিয়ের আগের এমন অনেক খারাপ তথ্য জেনেও সহজ-সরল আকাশ ভালবাসার শক্তির কাছে হেরে তাকেই বিয়ে করেন। ভেবেছিলেন হয়ত বিয়ের পরে তার পরিবর্তন হয়ে যাবে, সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

 কিন্তু সে আশায় গুড়ে বালি। বরং দিনের পর দিন মিতুর চলাফেরা ছিল অনেকটা যেই লাউ সেই কদু’র মতই। লোভ, উচ্চবিলাসী মনোভাব ও পরিবারের অবহেলার কারণেই তার চরিত্রের এমন অধঃপতন হয়েছে। তাদের মধ্যে বনিবনা না হওয়া, বাকবিত া, ঝগড়া-ঝাটি লেগে থাকা ইত্যাদি একটা নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমন পারিবারিক যন্ত্রণা, মানসিক অশান্তি ও পাপের কাজ থেকে স্ত্রীকে ফেরাতে না পেরে নিজেকে মুক্তি দিতেই অবশেষে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন সম্ভাবনাময় ডাক্তার আকাশ। কথায় আছে পাপকে ঘৃণা কর, পাপীকে নয়। পাপীকে শোধরানোর জন্য সুযোগ দিতে হবে, প্রয়োজনে নিতে হবে কঠিন পদক্ষেপ। আমাদের দেশে আইন থাকলেও নেই তার যথাযথ ও সঠিক প্রয়োগ। এই দুর্বলতাগুলো এখনই কাটাতে হবে। আমাদের মানসিকতা ও চিন্তা চেতনা এমনই যে, আমরা দুর্ঘটনা ঘটার আগে তার আভাস পেলেও পাত্তা বা গুরুত্ব কোনটাই তেমন একটা দেই না। কিন্তু দুর্ঘটনা ঘটার পরে মাথা ঘামাতে লেগে যাই। অর্থাৎ প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ নিয়ে আমরা ব্যস্ত। ডাক্তার আকাশ হয়ত তার স্ত্রীর পরিবার বা আশেপাশের অনেককেই কমবেশি অভিযোগ করেছিলেন।

 তখন হয়ত তার পাশাপাশি মিতুকে কেউ কঠিনভাবে বুঝাতে বা সতর্ক করতে আসেনি বা ব্যবস্থা নেয় নি। এদেশে নারী নির্যাতন করলে পুরুষকে নানা রকম মামলা ও শাস্তি ভোগ করতে হয়। কিন্তু যখন নারীরা পুরুষ নির্যাতন করে তখন আইন তো কোন কঠিন ব্যবস্থা নেয় না! পুরুষরা নানা রকম নির্যাতনের শিকার হয়ে স্ত্রীর উপরে সামান্য হাত তুললেই তার বিরুদ্ধে মামলা, জেল, শাস্তি ইত্যাদির বিধান রয়েছে। পুরুষরা এখানে রীতিমত অসহায়। এই ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করে আইনের সংস্কার করার পাশাপাশি সঠিক প্রয়োগও দরকার। মিতুর ফাঁসির দাবির পাশাপাশি তার পরিবারের সদস্যদেরকেও শাস্তির আওতায় আনতে চমেক হাসপাতালের সামনে চিকিৎসক, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন মহলও ইতোমধ্যে মানববন্ধন করেছেন। মিতুর অপরাধগুলোকে আমলে নিয়ে আদালত যেন সর্বোচ্চ বিচার করেন এমন দাবি দেশবাসী ও মরহুমের পরিবারের। পাশাপাশি এই সব মিতুরা যেন এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি করতে না পারে সে জন্য তাদেরকে নিরুৎসাহিত করতে কঠিন শাস্তি দেয়া হোক। সবশেষে সচেতন মনোভাব থেকে বলতে হয়- “সৎ পথে করিও ভ্রমণ যদিও হয় দেরি, অসৎ নারী করিও না বিয়ে যদিও হয় পরী”।
লেখক ঃ প্রকৌশলী-প্রাবন্ধিক
[email protected]
০১৭৭২-৩৯১৪৯১