মাসুদের মিশ্র ফলদ বাগানে আগ্রহী হচ্ছে কৃষকরা

মাসুদের মিশ্র ফলদ বাগানে  আগ্রহী হচ্ছে কৃষকরা

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি : নওগাঁর রাণীনগরের মাসুদ মিঞার চোখ জুরানো মিশ্র ফলদ বাগান এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এই বাগান থেকে নানান জাতের ফল উত্তোলন ও বিক্রয় হচ্ছে। একটি ফল ফুরাতে না ফুরাতে আরেকটি ফল বিক্রয় শুরু হয়। এভাবেই সারা বছরই চলে মাসুদ মিঞার ফল ব্যবসা। বর্তমানে তার বাগানে আম, পেয়ারা, ড্রাগন, মাল্টা, ডাব, পেঁপে’সহ নানান জাতের কাঁচা পাকা ফল শোভা পাচ্ছে। ধানের চাষযোগ্য জমিতে ফলদ বাগান লাভজনক হওয়ায় উপজেলার বেতগাড়ী গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে মাসুদুর রহমান (৪৭) মিশ্র ফলদ বাগান তৈরি করেছেন। তার এই সফল চাষ দেখে এলাকার বেকার যুবকরাও মিশ্র ফলদ বাগানের দিকে আগ্রহী হচ্ছেন।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ বলছে, রাণীনগর উপজেলার কয়েকটি এলাকায় ধান চাষের জমিতে ফলদ বাগান তৈরির উপযোগী জমি রয়েছে। যেখানে কৃষকরা ধানের পাশাপাশি বিভিন্ন জাতের ফল চাষও শুরু করেছে। তবে দো-আঁশ ও বেলে দো-আঁশ মাটিতে ফলদ গাছের চারা রোপণ করতে পারলে এবং নিবির পরিচর্যায় ফলন ভালো হয়।  মাসুদুর রহমান ১৯৮৮ সালে এসএসসি পরীক্ষায় উর্ত্তীর্ণ হওয়ার পর কলেজে ভর্তি হয়ে লেখাপড়ার পাশাপাশি বাড়ির পার্শ্বে পৈত্রিক জমিতে স্বল্প পরিমাণে নানান জাতের সবজি ও ফলদ বৃক্ষের চাষ শুরু করেন। ১৯৯০ সালে তার বাবা মারা যাওয়ার পর চার ভাই বোনের সংসারের পুরো দায়িত্ব তার কাঁধে পড়ে। এক পর্যায়ে লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়।

 সংসারের কিছু আয়ের জন্য বেকার বসে না থেকে কৃষি অফিসের পরামর্শে বাণিজ্যিকভাবে এক একর জমির ওপর বিভিন্ন ধরণের শাকসবজি ও পেঁপে, করলা, ঢেঁড়শ, পেয়ারা চাষ শুরু করলে ভাল ফলন ও উপযুক্ত দাম পেয়ে লাভবান হতে থাকে। সবজি চাষে কোন রকমে পুঁজি ফেরত পেলেও ২০১৭ সালের শেষের দিকে তার নিজের আরো এক একর জমির ওপর মাল্টা চাষ শুরু করে। বর্তমানে তার তিন একর জমিতে থাই জাতের পেয়ারা, মাল্টা, ড্রাগন, পেঁপে ও আম’সহ বিভিন্ন জাতের ফল ও সবজি চাষ পুরোদমে চলছে। রাণীনগর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো: শহিদুল ইসলাম বলেন, মাসুদের মিশ্র বাগান খুব ভাল হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক যথাযথ পরামর্শ, যথাসময়ে ভাল পরিচর্চা করার ফলে রোগ-বালাই না থাকায় সব ধরণের ফলের ভাল ফলন হচ্ছে। বাজারে এর চাহিদা বেশি থাকায় ভাল দাম পেয়ে তিনি লাভবান হবেন। তাকে অনুসরণ করে এলাকার চাষিরাও মিশ্র বাগান করার দিকে মনোযোগী হচ্ছে।