মাশরাফির শহরে অভিষেক বরণ

মাশরাফির শহরে অভিষেক বরণ

যুব বিশ্বকাপের ফাইনালের শুরুর কথা নিশ্চয় মনে আছে সবার! মিডিয়াম পেসার অভিষেক দাসের দারুণ এক ডেলিভারিতে বিদায় নেন ভারতের ওপেনার দিব্যংশ সাক্সেনা। সাফল্যের সূচনা মূলতঃ অভিষেকের হাত ধরেই। এরপর যার সমাপ্তি টানেন অধিনায়ক আকবর আলি। ম্যাচের মাঝে কত ঘটনা ঘটে গেলো! অভিষেক নিয়েছিলেন মোট তিন উইকেট।

সেই অভিষেক দাস কিন্তু বাংলাদেশের ক্রিকেটের আরেক উজ্জ্বল নক্ষত্র মাশরাফি বিন মর্তুজার নড়াইলের ছেলে। মাশরাফি যেটা পারেননি, সেটা করে দেখিয়েছেন নড়াইলের উদীয়মান নক্ষত্র অভিষেক দাস। সুতরাং, বাড়িতে তো আর তার নীরবে-নিভৃতে ফেরার কোনো অবকাশ নেই।

বিশ্বজয়ী বীরদের একজন, অভিষেক দাসকে তাই আজ বরণ করে নিলো নড়াইলবাসী। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে নভোএয়ারের একটি ফ্লাইটে করে যশোর বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান অভিষেক দাস অরন্য। সেখানে বাবা অসিত দাস, মা অরুনা দাসসহ পরিবারের সদস্যরা অভিষেককে মালা পরিয়ে বরণ করে নেয়। এরপর গাড়িতে করে যাত্রা করে নড়াইলের উদ্দেশ্যে।

তাকে বরণ করতে নড়াইল শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে নড়াইল-যশোর সড়কের গাবতলা এলাকায় হাজির হয় শতাধিক মটর সাইকেল, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার নিয়ে আত্মীয় স্বজন-বন্ধু বান্ধকসহ অভিষেক প্রেমীরা।

সেখান থেকে তাকে বরণ করে বর্নাঢ্য শোভাযাত্রা সহকারে দুপুর আড়াইটার দিকে নড়াইল শহরে প্রবেশ করে। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জাতীয় ক্রিকেট ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা এমপির বাড়িতে যায়।

এ সময় মাশরাফির মা হামিদা বেগম বলাকা ও বাবা গোলাম মর্তুজা স্বপন তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, তাকে মিষ্টি খাইয়ে দেন। তারা অভিষেকসহ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী দলের জন্য দোয়া কামনা করেন ও শুভেচ্ছা জানান।
 
পরে শোভাযাত্রাটি অভিষেককে নিয়ে তার বাড়ী শহরের বাধাঁঘাট এলাকায় যায় এবং ওই স্থানে স্থানীয়ভাবে সংবর্ধনা দেয়া হয়।

এ সময় অভিষেক বলেন, ‘অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ থেকে আরো ভালো কিছু অর্জনের জন্য চেষ্টা করে যাব। আপনারা আমার জন্য আর্শীবাদ করবেন, আমি যেন এর থেকে ভাল কিছু অর্জন করতে পারি। বাংলাদেশকে ভাল কিছু উপহার দিতে পারি সে চেষ্টা করব।’

এ সময় মাশরাফি বিন মর্তুজার বাবা গোলাম মর্তুজা স্বপন, অভিষেক দাসের বাবা অসিত দাস, আওয়ামীলীগ নেতা ও পৌরসভার কাউন্সিলর শরফুল আলম লিটু, বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী গিয়াসউদ্দিন খান ডালু, ক্রিকেট কোচ সৈয়দ মঞ্জুর তহিদ তুহিন, আওয়ামীলীগনেতা হাফিজ খান মিলন, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি চঞ্চল শাহারিয়ার মিম, সাধারণ সম্পাদক রকিবুজ্জামান পলাশ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।