মাশরাফির ভারত বধের মন্ত্র!

মাশরাফির ভারত বধের মন্ত্র!

মাশরাফিকে কি এখন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেই হারটি পোড়াচ্ছে? ২৪৪ রানের মাঝারি মানের স্কোর নিয়ে জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ হাসি হাসতে না পারার বেদনা কি এখনো কাঁটার মত বিঁধছে?

তার কথা-বার্তায় এখন সব পরিষ্কার। ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়কের মুখে চাপা আক্ষেপ, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি জিততে পারলে বা জেতা থাকলে এখন একটু হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারতাম।


যেহেতু তা হয়নি, এখন সামনে করণীয় কাজ হলো- ভারত আর পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ দুই ম্যাচ জেতা। সে জয়ের ব্যাপারে কতটা আশাবাদী ও আত্মবিশ্বাসী টিম বাংলাদেশের অধিনায়ক? সারা দেশ ও দেশের মানুষ উন্মুখ হয়ে আছেন তা জানতে।

মাশরাফি আত্মবিশ্বাসী। বিশ্বকাপে একবার নিয়ে (২০০৭) ভারতকে আগে পাঁচবার হারানোর সফল মিশনে ছিলেন বর্তমান টাইগার ক্যাপ্টেন। আত্মবিশ্বাস আর আস্থার জায়গাটি আছে বেশ তার; কিন্তু তিনি ভাবছেন সাফল্যর পূর্ব শর্ত পূরণ করা নিয়ে। মাশরাফি বিশ্বাস করেন, তার দলের ভারতকে হারানোর ক্ষমতা আছে।

তবে সেটা মুখে বলে বা এমনি বলে দিলেই হবে না। ভারতকে হারাতে হলে যা যা করার, তা খুব ভালো জানা আছে মাশরাফির। এখন সেই জানা কাজগুলো বাস্তবে প্রয়োগ করার চিন্তায় মশগুল বাংলাদেশ দলের ক্যাপ্টেন।

প্রশ্ন উঠলো মাশরাফি, আপনার দলের এতটা ভাল খেলা এবং আট নম্বর ম্যাচ পর্যন্ত সেমিফাইনালের লড়াইয়ে থাকার কথা ভেবেছিলেন কি? বিশ্বকাপ শুরুর এক মাস আগেও কি আপনি ভেবেছিলেন, দল এতদূর যাবে?

মাশরাফির আত্মবিশ্বাসী জবাব, ‘হ্যাঁ ১০০ বার ভেবেছিলাম। আমার মনে হয় না আমরা আমাদের লক্ষ্য থেকে খুব বেশি দূরে। আর মাত্র দুটি ম্যাচ। জিতলেই আমাদের লক্ষ্য পূরন হবে। এই লক্ষ্য পূরনে নিজেদের সামর্থ্যের সেরাটা উপহার দিতে হবে। একদম সেরাটা খেলতেই হবে। আমরা যদি ওই দুটি ম্যাচ জিততে পারি, সেটা হবে অনেক বড় পাওয়া। বিশাল অর্জন।'

কারণ যে দুই দলের সাথে খেলা বাকি, সেই ভারত আর পাকিস্তান দু'দলই বেশ শক্তিশালী। তবে প্রাথমিকভাবে আমাদের এই ম্যাচের কথা ভাবতে হচ্ছে। ভারত এবারের বিশ্বকাপে অনেক বেশি শক্তিশালী দল। কাজেই তাদের সাথে পেরে ওঠা এবং হারানোটা সহজ কাজ নয়।’

প্রতিপক্ষ হিসেবে ভারত সম্পর্কে তার মূল্যায়ন, ‘ঠিক এই মাঠে আগের ম্যাচে ইংলিশদের কাছে হারলেও ভারতের ব্যাটিং সামর্থ্য অনেক, বোলিংটাও দারুণ। ব্যাটিংয়ে টপ অর্ডারে যারা আছেন তারা সেট হয়ে গেলে পরে আটকানো মুশকিল। কাজেই কোনোরকম ভুল করা যাবে না। ব্যাটিং, বোলিং আর ফিল্ডিংয়ের তিন শাখায় শতভাগ দিতে হবে।’

এসময় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে ওয়ার্নারের ক্যাচ ড্রপ আর রান আউটের চান্স মিস- এসব ঘটনার উদাহরণ টেনে মাশরাফি বলে ওঠেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার সাথে করা ভুলের পুনরাবৃত্তি ঘটানো যাবে না কিছুতেই। ’

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে মাশরাফি পরিষ্কার বুঝিয়ে দিয়েছেন, তার চোখে ভারতই সবচেয়ে কঠিন ও শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে তার মুখ থেকে বেড়িয়ে আসা এমন উক্তিই বলে দেয়, কোহলি, রোহিত আর ধোনিদের তিনি কোন পাল্লায় মাপেন। তিনি বলেন, ‘আসলে দল হিসেবে ভারত অনেক শক্তিশালী। ব্যাটিং-বোলিংটা বেশ সমৃদ্ধ এবং গোছানো। সেই দলকে হারাতে হলে আমাদের শুধু ভাল খেললেই চলবে না। এবারের বিশ্বকাপে আমরা এখনো তত ভাল খেলিনি। সেই না খেলাটাই কাল খেলতে হবে।’

৫০ ওভারের পাশাপাশি টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ভারতের সাথে বাংলাদেশের কয়েকটি খুব ক্লোজ ম্যাচ হয়েছে। ২০১৫ সালে রোহিত শর্মার ‘নো বলে’ আউট আর রিয়াদের ছক্কা না ক্যাচ? নিয়ে বেশ বড় ধরনের বিতর্ক হয়েছে। দু’দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে কোনো উত্তেজনা না ছড়ালেও দু'দেশের ভক্ত ও সমর্থকরদের মধ্যে এ নিয়ে সবসময় চলে আসছে বেশ উত্তেজক কথা-বার্তা।

ভারতের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ন ম্যাচের আগে ওসব বিতর্ক আর উত্তেজক ঘটনা চিন্তায় এসেছে কি না? এক ভারতীয় সাংবাদিক প্রশ্ন করে বসলেন। কিন্তু এদিন মাশরাফি যেন মাথায় রাজ্যের বরফ দিয়ে এসেছিলেন। একদম ঠাণ্ডা মাথায় সাজানো গোছানো জবাব, ‘নাহ যেকোনো বিতর্ক আমি বা আমরা সযত্নে এড়িয়ে চলি। আমার লক্ষ্যই থাকে মাঠের বাইরের কোনো ঘটনা মাথায় না নিয়ে খেলা। আমি কোনো সময় সমর্থক-ভক্ত ও তাদের আচরণ, কথা-বার্তাকে বেশি আমল দিয়ে খেলি না। ভক্ত-সমর্থকরা তাদের কাজ করবেন। তারা তাদের মতো আচরণ করবেন। কথা বলবেন। আমরা যদি সেগুলো মাথায় নিয়ে খেলতে নামি, তাহলে লক্ষ্য ও পরিকল্পনার যথাযথ বাস্তব রুপ দেয়া কঠিন।'

'আমি আসলে ভাবি করণীয় কাজগুলো নিয়ে। কীভাবে লক্ষ্য ও পরিকল্পনার যথাযথ বাস্তবায়ন করা যায় সেটা থাকে মূল লক্ষ্য। অতীতেও ভারতকে হারিয়েছি। এবারও হারানোই ছিল লক্ষ্য। কিন্তু প্রতিবারই আমরা পারিনি। কারণ, মাঠে ভারতীয়রা ছিল আমাদের চেয়ে ভালো দল। অনেক শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। সত্যি কথা বলতে কী আমাদের মাথায় অন্য কোন চিন্তা নেই। আমরা মাঠে যাব এবং আমাদের সেরাটা খেলার প্রাণপণ চেষ্টা করবো’- বলেন টাইগার দলপতি।

‘কি করলে বাংলাদেশ জিততে পারে? এমন কোনো মন্ত্র কি আছে, যা দিয়ে ভারতীয়দের বশ করা যাবে? মাশরাফি বললেন, ‘কেউ বলতে পারবে না যে আমরা জিতবো না। যদি দিনটি আমাদের থাকে, একটি ভাল দিন যদি কাটে আর সব জায়গায় যদি সামর্থ্যের শতভাগ নিগড়ে ভালো খেলা যায়, তবে কালকের (আজ) দিনটি আমাদের হতেও পারে। খেলাধুলায় নিজের দিনে যাকে-তাকে হারনো যায়। অসম্ভব নয় কিছুই।