মান্দায় অর্থাভাবে বন্ধ হয়ে গেছে ব্রিজের নির্মাণ কাজ

মান্দায় অর্থাভাবে বন্ধ হয়ে গেছে ব্রিজের নির্মাণ কাজ

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি : নওগাঁর মান্দায় অর্থাভাবে বন্ধ হয়ে গেছে বালুবাজার উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন শিবনদের ওপর নির্মাণাধীন একটি ব্রিজের কাজ। এলাকাবাসীর অর্থায়নে অর্ধেক নির্মিত হলেও অবশিষ্ট কাজ ঝুলে আছে বছরের পর বছর ধরে। দফায় দফায় প্রতিশ্রুতি মিললেও মিলছে না সরকারি বরাদ্দ। ব্রিজের কাজ সম্পন্ন করতে না পারায় হতাশ স্থানীয়রা। শিবনদের উল্লেখিত স্থানে একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন চককেশব, বানিসর, হাটোইর, মনোহরপুর ও চকমোনহরপুর গ্রামের অন্তত ৫ হাজার পরিবার। প্রায় দেড় যুগ আগে ওই স্থানে ব্রিজ নির্মাণে সোচ্চার হয়ে ওঠে স্থানীয়রা। ২০০৪ সালের দিকে এ দাবি আরও জোরাল হয়। স্থানীয়ভাবে কমিটি গঠন করে উত্তোলন করা হয় এক লাখ টাকা। ওই সময় তৎকালীন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সচিব বালুবাজার গ্রামের নুরুল ইসলামও ব্রিজটি নির্মাণের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন। সরকারিভাবে ব্রিজটি নির্মাণে ব্যর্থ হয়েও মনোবল ভেঙে পড়েনি স্থানীয়দের। তারা ব্রিজ নির্মাণের লক্ষ্য নিয়ে বালুবাজার বাজারে দুইবার ইসলামী জালসার আয়োজন করে। সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন বিত্তবানসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ।

 হাটোইর গ্রামের মাহফুজুর রহমান জানান, দুই জালসায় লক্ষাধিক টাকা, ২৫০ বস্তা সিমেন্ট ও ৯০ মণ ধান আদায় হয়। আগের উত্তোলনকৃত এক লাখ টাকা ব্যবসায়িক কাজে লাগিয়ে মুনাফা আসে ৮০ হাজার টাকা। এটুকু পুঁজি নিয়েই ব্রিজের নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। তিনি আরও বলেন, নির্মাণ কাজ শুরু হলে স্থানীয়রা আরও সহযোগিতা করেন। তা দিয়ে অর্ধেক কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অর্থের অভাবে আজও পড়ে রয়েছে অবশিষ্ট কাজ। স্থানীয় ইউপি সদস্য আকরাম হোসেন সরদার জানান, শিবনদের ওই স্থানে ব্রিজ নির্মাণের লক্ষ্যে সেসময় কেশবপুর নি¤œ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু দাউদ খানকে সভাপতি, পরানপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ইলিয়াস খানকে সাধারণ সম্পাদক ও বালুবাজার কলেজের ডেমোনেস্টেটর হাবিবুর রহমানকে কোষাধ্যক্ষ করে ৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটির তত্ত্বাবধানে ব্রিজটির অর্ধেক কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ব্রিজ নির্মাণ কমিটির সভাপতি আবু দাউদ খান জানান, স্থানীয়দের অর্থায়নে ১৪০ ফুট দৈর্ঘ ও সাড়ে ৮ ফুট চওড়া ব্রিজটির ৯০ ফুট কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ব্যয় হয়েছে ২০ লক্ষাধিক টাকা। অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করতে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। এ জন্য সরকারি সহায়তা কামনা করেন তিনি। বালুবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান জানান, চককেশব, বানিসর, হাটোইর, মনোহরপুর ও চকমোনহরপুর গ্রামের অন্তত ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করে। বর্ষা মওসুমে এসব শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তির শিকার হয়ে থাকে। দীর্ঘ পথ ঘুরে বিদ্যালয়ে এসে তারা লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া নির্বিঘœ করতে ব্রিজ নির্মাণ অত্যন্ত প্রয়োজন।

পরানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ব্রিজ নির্মাণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক জানান, বালুবাজার বাজার সংলগ্ন শিবনদের ওপর একটি ব্রিজের অভাবে উল্লেখিত ৫ গ্রামের অন্তত ৫ হাজার পরিবার চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন। এসব গ্রামের অধিকাংশ কৃষক শিবনদ পার হয়ে ছাতড়া বিলে ফসলের চাষ করেন। তাদের উৎপাদিত ফসল কালিতলা ব্রিজ হয়ে অন্তত তিন কিলোমিটার পথ ঘুরে বাড়িতে নিয়ে আসতে হয়। বর্ষা মওসুমে কৃষকের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজাউল করিম বলেন, জনসাধারণের চলাচলের সুবিধার্থে ব্রিজটি নির্মাণ হওয়া প্রয়োজন। এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে অচিরেই সরকারিভাবে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া প্রক্রিয়া চলছে।