মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ

মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ

কেনিয়া, তানজানিয়া এবং উগান্ডায় ক্লাস থ্রি পড়–য়া শিক্ষার্থীদের বলা হয়েছিল একটি সাধারণ বাক্য ‘দ্যা নেম অব দ্যা ডগ ইজ পাপ্পি’- এটি পড়ার জন্য। তিন-চতুর্থাংশ শিক্ষার্থী এই বাক্যের মানেই বোঝেইনি। ৪৬ থেকে ১৭ বিয়োগ করলে কত হবে ভারতের গ্রামীণ স্কুলে পড়–য়া পঞ্চম শ্রেণির অর্ধেক শিক্ষার্থী এটি সমাধান করতে পারেনি। বিশ্বে এমন লাখ লাখ শিশু রয়েছে যারা শুধু স্কুলে ভর্তি হচ্ছে, কিন্তু কিছুই শিখছে না। তারা সাধারণ জ্ঞানটুকুও অর্জন করছে না। শিক্ষার মান নিয়ে গত সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত বিশ্ব ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে বিশ্বে নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে প্রতি একশ জনের ৯০ জন প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করছে। তাদের মধ্যে ৬১ জন নিম্ন মাধ্যমিক পার হতে পারছে। মাত্র ৩৫ জন উচ্চ মাধ্যমিকের গন্ডি পার হতে পারছে। এর মধ্যে অনেকেই ভবিষ্যৎ উচ্চ শিক্ষা এবং কারিগরি শিক্ষা পাচ্ছে না। কিন্তু বিষয়টি সংখ্যার নয়, মানের। আমাদের দেশেও শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

গণমাধ্যমে শিক্ষাবিদ বা বিশেষজ্ঞদের এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে দেখা যায়। শিক্ষাবিদ বা শিক্ষানুরাগীদের মতে, দেশে শিক্ষার মান ক্রমেই কমছে। অনেক ছেলে-মেয়েই পরীক্ষায় পাস করে কিংবা সনদপত্র পায়, কিন্তু জ্ঞানার্জন করেনা। এইচএসসি পরীক্ষায় প্রচুর জিপিএ ৫ পেয়ে পাস করে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় টিকতে পারে না। এক বাক্যে প্রায় সবাই স্বীকার করে কোচিং বাণিজ্য ও গাইড বই ছেলে-মেয়েদের সর্বনাশ করছে। প্রশ্নোত্তর শেখা বা মুখস্থ করা কখনো শিক্ষা হতে পারে না। অথচ শিক্ষার উন্নয়নে সরকার প্রচুর ব্যয় করছে। বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে সরকার বিনামূল্যে বই বিতরণ, শিক্ষা উপবৃত্তি, অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা, খাদ্য ব্যবস্থা সহ নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য স্কুলের শিক্ষকদের ধারাবাহিক পেশাগত প্রশিক্ষণের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।