মানব পাচার রুখতে হবে

মানব পাচার রুখতে হবে

সাগর পথে মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রস্তুতিকালে কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে নারী সহ ১৫ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে সাতজন নারী ও আটজন পুরুষ। তারা সবাই উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা শিবিরে বসবাসকারী বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। গত সোমবার ভোরে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। এরা সবাই টেকনাফ উপকূল দিয়ে মালয়েশিয়া যাওয়ার লক্ষ্যে সেখানে অবস্থান করছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে। উদ্ধার করা নারী-পুরুষদের অনেক আত্মীয় স্বজন আগে থেকেই থাইল্যান্ডে ও মালয়েশিয়ায় রয়েছে। সেই সুবাদে তারা সাগর পথে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা চালায়। গত বছরের ৬ নভেম্বর সাগর পথে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টাকালে টেকনাফের শাহ পরীর দ্বীপ থেকে বিজিবির সদস্যরা ১৪ জন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষকে উদ্ধার করেন। এদের মধ্যে পাঁচজন নারী ছিলেন।

আমরা মনে করি, এ ধরনের ঘটনা যেভাবেই হোক রোধ করতে হবে। বাংলাদেশ থেকে এর আগেও অবৈধভাবে মালয়েশিয়াগামী ট্রলার চলাচলের খবর পাওয়া যায়, বেশির ভাগ মানুষই এ পথে যেতে উদ্যত হয় দালালদের নানা প্রলোভন ও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে। এ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ যেন দালালদের প্রলোভনের শিকার না হয় এবং একই সঙ্গে দালাল চক্রকে চিহ্নিত করে প্রতিহত করতে হবে। আমরা কোনোভাবেই চাই না মানুষের এ অনিশ্চিত যাত্রার ফলে কারো জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়–ক, আর নি:স্ব হয়ে যাক একেকটি পরিবার। সর্বোপরি সরকারকে বলতে চাই - যে পথ মানুষের জন্য নিরাপদ নয়, সে পথে যেন কোনো কুচক্রীই সাধারণ মানুষকে যেতে প্ররোচনা না দিতে পারে সেদিকে নজরদারি বৃদ্ধি করতে হবে। বাংলাদেশের বেশির ভাগ পরিবারই আর্থিক অনিশ্চয়তায় দিন যাপন করে। তাই নানা প্রলোভন তাদের কাছে আসে। এ ক্ষেত্রে  আমরা বলতে চাই, কারো প্রলোভনে পড়ে অবৈধপথে কোন রোহিঙ্গা পরিবার যেন সাগর পাড়ি দেওয়ার ঝুঁকি না নিতে পারে। এ জন্য উপকূলে আমাদের নজরদারি আরো বাড়াতে হবে।