মানব উন্নয়ন সূচকে অগ্রগতি

মানব উন্নয়ন সূচকে অগ্রগতি

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি তথা ইউএনডিপির মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশ এক বছরেই তিন ধাপ এগিয়েছে। ১৮৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান রয়েছে ১৩৬তম। গত বছর ছিল ১৩৯তম। গড় আয়ু, মাথা পিছু আয়, শিক্ষা এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জন ঈর্ষণীয় বলা যায়। নারীর ক্ষমতায়নে সাফল্য উল্লেখ করার মতো। প্রতিটি দেশের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আয় ও সম্পদের উৎস, বৈষম্য, লিঙ্গ সমতা, দারিদ্র্র, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও আর্থিক প্রবাহ, যোগাযোগ, পরিবেশের ভারসাম্য ও জনমিতির তথ্য বিশ্লেষণ করে ইউএনডিপি এই সূচক তৈরি করে। ইউএনডিপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক খাতে ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশ এগিয়ে, যদিও মাথাপিছু আয়ে বাংলাদেশ যথেষ্ট পিছিয়ে- এসব মানদ  বিচারে এবার বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়িয়েছে ০.৬০৮, যা গত বছর ছিল ০.৫৭৯। এ বছরও তালিকার শীর্ষে রয়েছে নরওয়ে, তাদের স্কোর ০.৯৫৩। বাংলাদেশ প্রায় সব মানদন্ডেই উন্নতি করেছে। মানব উন্নয়ন সূচকে তিনধাপ এগিয়ে যাওয়া নিঃসন্দেহে এক সুখবর।

তবে হতাশার দিক হলো এদিক থেকে বিশ্ব পরিসরে আমাদের দেশ ১৩৫টি দেশের চেয়ে পেছনে। এমনকি দক্ষিণ এশিয়ার ভারত ও ভুটান কিছুটা হলেও এগিয়ে। মানব উন্নয়নে শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে সাতটিই ইউরোপের। আমাদের লক্ষ্য ২০৪১ সালের মধ্যে এশিয়ার সমৃদ্ধ দেশগুলোর সারিতে স্থান করে নেওয়া। এ জন্য টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন যেমন চাই, তেমনি মানব উন্নয়নের বিভিন্ন খাতে চাই আরও বরাদ্দ। মানব উন্নয়নে এগিয়ে যেতে হলে প্রতিটি বিষয়ে আমাদের আরও দীর্ঘ পথ চলতে হবে।  সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলোতে যে সীমাবদ্ধতা রয়েছে তা অতিক্রমে আন্তরিক হওয়াও জরুরি। রফতানি ও শ্রম বাজারের প্রধান গন্তব্যের দেশগুলোতে কোনো কারণে মন্দা দেখা দিলে তা পড়বে আমাদের অর্থনীতি ও সমাজ জীবনে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, মানুষের জীবন মানের উন্নয়ন প্রধানত নির্ভর করে দেশটিতে বিদ্যমান সুশাসন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সুষ্ঠু পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে চলার ওপর। আমরা এ সাফল্য ধরে রাখতে চাই।