মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়–ন

মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়–ন

মাদক নিয়ে সমাজ ভীষণ উদ্বিগ্ন। সরকারের উদ্বেগও কম নয়। কিন্তু সরকারের উদ্বেগ যদি যথাযথ হতো, তাহলে এত দিনে এ সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান না হলেও উদ্বেগের অবসান ঘটত। কোথাও কোনো ঘাটতি নিশ্চয় রয়েছে। কীভাবে মাদক নিত্যপণ্যের মতো আমাদের অলিগলিতে ঢুকে পড়ে, তা সবাই না জানলেও কিছু লোক জানে। মাঝে মধ্যে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরাও পড়ে কেউ কেউ। তারা আবার আইনের ফাঁক গলে বেরিয়েও পড়ে। আসল নাটের গুরুরা কখনোই ধরা পড়েনা। তারা ধরা পড়লে এদের মুখোশ যেমন উন্মোচিত হতো, তেমনি মাদক ব্যবসায়ও ভাটা পড়ত। এখনো মাদককে ফেরাতে না পারলে এ বিষ সমাজের জবাবদিহিতার জায়গাগুলো স্পষ্ট করা দরকার। সীমান্ত এলাকা দিয়ে মাদক কিভাবে দেশের অভ্যন্তরে ঢোকে, সে ব্যাপারে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন, সেমিনার-আলোচনা, প্রতিরোধমূলক প্রচারণা, সামাজিক উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের সুপারিশ এবং পুলিশি অভিযানের পরও মাদকের বিস্তৃতি বাড়ছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে এত পথ পেরিয়ে মাদক সারা দেশে কীভাবে ছড়িয়ে পড়ে- এসব ব্যাপারেও দৃষ্টি দিতে হবে। আমরা মনে করি এসব জায়গায় জবাবদিহিতার দৃষ্টি করলে মাদক নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে। মদ, গাজা এবং চরস তো এখন পুরনো নাম। আমাদের সমাজে অনুপ্রবেশ ঘটেছে ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল, কোকেন, সিসা। তথ্য বিশ্লেষণ ও বিশেষজ্ঞদের অভিমত পর্যালোচনা করে দেখা যায়, মাদকের বিস্তৃতির কারণে বৈষম্যমূলক উন্নয়ন, আর্থিক অনটন জনিত হতাশ, আভিজাত্য প্রকাশ, সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে সংশ্লিষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রের সংকোচন, দুর্নীতিলব্ধ উড়ো টাকা, রাজনৈতিক অপকৌশল ও জনকল্যাণমুখী মতাদর্শ চর্চার অভাব। এসব বিষয়ে রাষ্ট্র ও সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ থাকতে হবে।