মাদকের আগ্রাসন ঠেকাতে হবে

মাদকের আগ্রাসন ঠেকাতে হবে

মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাত বাড়ালেই মাদক মেলে-এমন বাস্তবতায় শুভবুদ্ধি সম্পন্ন সবারই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা সঙ্গত কারণেই বাড়ছে।  গণমাধ্যমের খবরে প্রকাশ, মাদকাসক্তি নিরাময়ের কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত বিশেষজ্ঞরা ২০২০ সালের মধ্যে দেশে এক কোটি লোক নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ার আশংকা ব্যক্ত করেছেন। তারা বলেছেন, প্রতি বছর শুধু নেশারই পেছনে খরচ ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। সারা দেশে মাদকের বিস্তৃতি কি আকার ধারণ করেছে তা বর্ণনাযোগ্য নয়। সমাজের প্রতিটা স্তরে পৌছে গেছে মাদক। সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হলো - আমাদের আগামী ভবিষ্যৎ হিসেবে গণ্য করা হয় যে কিশোর- তরুণ সমাজকে তারাও নানা মরণ নেশার ছোবলের বাইরে নেই।

মাদকের এই ভয়াবহতা থেকে সমাজ রক্ষার জন্য বেশ আগে থেকেই গণমাধ্যমে লেখালেখি, সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান হলেও তা আসলে যেন অরন্যে রোদন মাত্র। কখনো কখনো দু-একটা ছিচকে মাদক ব্যবসায়ী ধরা পড়লেও পালের গোদারা থেকেছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। এভাবে ধীরে ধীরে মাদক ব্যবসা সমাজে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সরকারের কঠোর হস্তক্ষেপ ছাড়া মাদক নির্মূল সহজ ব্যাপার নয়। মাদকাসক্তরা যেমন নিজেদের ধ্বংস করছে, তেমনি পরিবারকেও ঠেলে দিচ্ছে বিপর্যয়ের দিকে। অন্যদিকে মাদকের অবশ্যম্ভাবী অনুসর্গ হিসেবে তারা নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। দ্রুত এর গতি রোধ না করা গেলে সামাজিক- অর্থনৈতিক সব ধরনের স্থিতিই বিঘিœত হবে। ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল সহ সব ধরনের মাদক প্রতিরোধে সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।