মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা জনসম্মুখে আনা হবে

মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা জনসম্মুখে আনা হবে

 মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে সরকার। মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরি করে জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে। এছাড়া মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনাও বাড়াতে হবে। সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর সভাপতিত্বে ‘আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত’ মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে শিল্পমন্ত্রী আমু বলেন, এক বছরে ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, শিশু নির্যাতন, ডাকাতি, খুন ও অপহরণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এসব ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলার যথেষ্ট উন্নতি সাধন হয়েছে। আমরা যেটা বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন সেটা হচ্ছে মাদক।

আমির হোসেন আমু জানান, মাদক পাচার, মাদক ব্যবসায়ী, গড ফাদার সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় দেওয়া তালিকার ভিত্তিতে মোট ৮৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এরমধ্যে ১৮৮ জন কারাগারে রয়েছে। তারপরও আমরা মনে করি এটার ব্যাপারে তৎপর হওয়া প্রয়োজন। সেই তৎপরতাগুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি ও আগামীতে এই তৎপরতা আরো বাড়বে। “যেহেতু মাদকসেবী বাড়ছে, এটা আমাদের উদ্বেগ। এটি জাতির ভবিষৎ ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় পরিণত হচ্ছে। সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমরা কতগুলো কর্মতৎপরতা নিচ্ছি।”

আমু জানান, মাদকের কুফল সম্পর্কে প্রতিটি মসজিদ, স্কুল-কলেজে সবাইকে অবহিত করতে হবে। যাতে এটির বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠে। সেদিকে খেয়াল রেখে আমরা কর্মপন্থা গ্রহণ করেছি। এগুলো কার্যকরের জন্য মনিটরিংয়ের ব্যবস্থাও থাকবে।

গত বছরের ডিসেম্বর মাসে মাদকসেবী, মাদক ব্যবসায়ী মিলে মোট ১০ হাজার ১২৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। কমিটির সভাপতি শিল্পমন্ত্রী আমু বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সব ব্যবস্থা একত্রে কাজ করছে। সরকার মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। সব গোয়েন্দা সংস্থা থেকে মাদকদ্রব্য ব্যবসায়ীদের তালিকা করা হচ্ছে, সব গোয়েন্দা সংস্থার তালিকা সমন্বয় করে জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে। তাছাড়া মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনা বাড়াতে হবে।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, ২০১৬ সালের জুলাই থেকে এ পর্যন্ত জঙ্গি বিরোধী ৩২টি বড় অভিযানে ৭৮ জন নিহত হন। শীর্ষ জঙ্গি গ্রেফতার ৬৪ জন। ভিকটিম উদ্ধার ১০৩ জন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিহত আটজন। এরমধ্যে পুলিশ পুলিশের ছয় জন, র‌্যাবের একজন ও ফায়ার সার্ভিসের একজন।

২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত জঙ্গি অভিযানে নিহত, নিহতের চেষ্টা, বোমা হামলায় মোট ৮০টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে চারটির বিচার শেষ হয়েছে, অভিযোগপত্র ২৮টি। প্রায় সব মামলার রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। সভায় উপস্থিত ছিলেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, নৌমন্ত্রী শাজাহান খানসহ কমিটির সদস্য ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।