মাদক বিরোধী কর্মপরিকল্পনা

মাদক বিরোধী কর্মপরিকল্পনা

মাদকের ভয়াবহ থাবা দেশের তরুণ সমাজকে রীতিমতো পঙ্গু করে দিচ্ছে। শহরে তো বটেই, প্রত্যন্ত গ্রামেও ছড়িয়ে পড়েছে ভয়ংকর সব মাদকের নেশা। মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসন সমাজ দেহে যে বিরূপ প্রভাব ফেলছে, তা চরম উদ্বেগজনক। বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশে মাদকের সর্বনাশা থাবা অনেক সম্ভাবনার মুলে কুঠারাঘাত করছে। তবে ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদক পাচার বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে। চলছে নিয়মিত অভিযান, প্রণীত হয়েছে কঠোর আইন। গঠন করা হয়েছে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। সাম্প্রতিক সময়ে মাদকবিরোধী অভিযানে কোথাও কোথাও সন্দেহভাজন কারবারিরা মারাও যাচ্ছে। উদ্ধার হচ্ছে ইয়াবা, ফেনসিডিল সহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য। এসব সত্ত্বেও বন্ধ হচ্ছে না মাদকদ্রব্য পাচার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, পাচারকারীরা মাদককে লাভজনক ব্যবসা মনে করছে। অতি লাভের আশায় মাদক ব্যবসায় অনেকেই ঝুঁকছে।

তবে মাদক পাচার বন্ধে সরকার জিরো টলারেন্সে বিশ্বাসী। আমরাও মনে করি মাদককে কোন ছাড় নয়। দেশের সর্বত্র মাদকের কেনাবেচা বন্ধ করার কোনো বিকল্প নেই। মাদকবন্ধে সবার আগে সীমান্ত পুরোপুরি নিñিদ্র করতে হবে। কোনোভাবেই যেন মাদক ঢুকতে না পারে সে ব্যাপারে সর্বাত্মক সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে মনে রাখতে হবে দেশের সাধারণ মানুষ তাদের সঙ্গে আছে। সাধারণ মানুষের পূর্ণ নৈতিক সমর্থন থাকলে যে কোনো কঠিন কাজও সহজ হয়ে যায়। মাদকের অপব্যবহার রোধ করতে না পারলে দেশের সমূহ যে ক্ষতি হবে, তা কোনেভাবেই রোধ করা যাবে না। কেননা মাদক থেকে আরো অনেক অপরাধের জন্ম হয়। আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান চলমান রাখতে হবে। যে সব রুট দিয়ে দেশে মাদক প্রবেশ করে, সেই রুটগুলো কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বাড়াতে নানামুখী কর্মসূচি নিতে হবে।