মাদক নির্মূল

মাদক নির্মূল

গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও খানা পরিসংখ্যানে পাওয়া তথ্য বলছে, দেশে মাদকসেবীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। কিশোর-তরুণ থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষ আসক্ত হচ্ছে মাদকে। বর্তমান পৃথিবীর ভয়াবহতম বিপদ মাদকদ্রব্য। একটি জাতি গঠনের প্রধান দায়িত্ব তরুণদের। আর মাদকের ছোবলের প্রধান শিকার তরুণরাই। আমাদের সমাজেও আশংকাজনকহারে বাড়ছে মাদকের ব্যবহার। সরকারের নানা রকম নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাঝেও ছড়িয়ে পড়ছে মাদক। হাতে হাতে ঘুরছে নানা নামে, নানা রকম মাদকদ্রব্য। শহরের অভিজাত এলাকা থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামেও হাত বাড়ালেই মিলছে মাদকদ্রব্য। আর এর ভয়াবহতার ভীতি হিসেবে ক্রমেই পঙ্গুত্বের দিকে এগিয়ে চলেছি আমরা। মাদকদ্রব্য দেশের ভেতর ছড়িয়ে পড়ছে প্রধানত সীমান্ত এলাকা দিয়ে। সীমান্তবর্তী দুটি দেশ ভারত ও মিয়ানমার থেকে অবাধে দেশের ভেতর ঢুকছে ইয়াবা, ফেনসিডিল সহ নানা রকম মাদকদ্রব্য।

জানা যায়, বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ভারতের অনেক এলাকায় বেশকিছু ফেনসিডিল তৈরির কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে বাংলাদেশে পাচারের লক্ষ্য নিয়ে। একইভাবে মিয়ানমারের সীমান্তের ওপারেই তৈরি হচ্ছে ইয়াবা। লক্ষ্য একই বাংলাদেশে পাচার করা। সন্দেহ নেই, মাদক দেশের তরুণ সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। মাদকের কারবারি অনেকেই আজ রাস্তার টোকাই থেকে কোটিপতি। ইয়াবা বেঁচে ১২ বছরের শত কোটি টাকার মালিকই শুধু নয়। সিআইপি হওয়ার উদাহরণও আছে। মাদকের ভয়াবহ বিস্তার নিয়ে সর্বমহলে গভীর উদ্বেগের পটভূমিতে গত বছরের ৪ মে থেকে দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে। অভিযানে মাদক ব্যবসায়ে যুক্ত শত শত ব্যক্তি গ্রেফতার হয়েছে। ‘বন্দুক যুদ্ধে’ মৃত্যুর শিকার হচ্ছে মাদক কারবারিরা। তরুণ প্রজন্মকে মাদকের বিষাক্ত ছোবল থেকে রক্ষার এ বিশেষ অভিযান সফল করতে হবে। অভিযানের সুযোগ নিয়ে কেউ প্রশ্ন তোলার সুযোগ না পায় সেটাও সতর্ক থাকতে হবে। দেশ ও সমাজের জন্য ক্ষতিকর মাদকের গডফাদারদের ধরতে হবে। কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।