মাতুয়াইল স্যানিটারি ল্যান্ডফিলের ভূমি অধিগ্রহণ চূড়ান্ত পর্যায়ে

মাতুয়াইল স্যানিটারি ল্যান্ডফিলের ভূমি অধিগ্রহণ চূড়ান্ত পর্যায়ে

প্রায় দুই কোটি মানুষের বসবাস রাজধানী ঢাকা শহরে। বাসাবাড়ির ময়লাসহ রাজধানীতে প্রতিদিন জমা হয় প্রায় সাড়ে ৬ থেকে সাত হাজার টন বর্জ্য। নতুন করে ওয়ার্ড যুক্ত হওয়ায় এর পরিমাণ আরও বেড়েছে। প্রতিদিন জমা হওয়া এসব বর্জ্য অপসারণে দুই সিটি কর্পোরেশনের নেই পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ও জনবল। যে কারণে বর্জ্য অপসারণে প্রতিনিয়ত হিমশিম খাচ্ছে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন।


এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় ওই বর্জ্য কাজে লাগাতে, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে ৭২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘মাতুয়াইল স্যানিটারি ল্যান্ডফিল সম্প্রসারণসহ ভূমি উন্নয়ন’ প্রকল্পের জন্য প্রায় ৮১ একর ভূমি অধিগ্রহণ করার কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

নতুন করে সম্প্রসারিত বর্জ্য ডাম্পিংয়ের প্রকল্পের জন্য আরও ৮১ একর জমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে প্রকল্প হাতে নিয়েছে ডিএসসিসি। একনেক থেকে পাস হয়ে আসার পর জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু করে বর্তমানে শেষের পথে রয়েছে। এরপরই নতুন সম্প্রসারিত ৮১ একরের মধ্যে ৫০ একর ল্যান্ডফিল ও ৩১ একর জায়গা বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা হবে। এতে বড় ধরনের একটি দগ্ধকরণ অংশ নির্মাণ করা হবে। যেখানে দুটি পৃথক অংশ থাকবে, যার মধ্যে একটিতে সাধারণ বর্জ্য এবং অন্যটিতে ইলেকট্রনিক বর্জ্য দগ্ধ করা হবে।

জানা গেছে, ডিএসসিসি এলাকা থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ২০০ টন বর্জ্য উৎপাদন হচ্ছে। নতুন করে ওয়ার্ড যুক্ত হওয়ায় এর পরিমাণ আরও বেড়েছে। এদিকে বর্জ্য ফেলার স্থান মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলেও পর্যাপ্ত সংকুলান নেই। এ অবস্থায় সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন মাতুয়াইলে বড় ধরনের একটি দগ্ধকরণ প্লেস নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। এতে পৃথক দুটি ভাগ থাকবে। একটিতে সাধারণ বর্জ্য এবং অন্যটিতে ইলেকট্রনিক বর্জ্য দগ্ধ করা হবে। ইলেকট্রনিক বর্জ্য পোড়ানোর পর যে নির্যাস থাকবে, তা দিয়ে কয়লা জাতীয় দ্রব্য উৎপাদন করা হবে জ্বালানির কাজে। পাশাপাশি বর্জ্য দগ্ধকরণ প্রক্রিয়ায় যে তাপ বা শক্তি উৎপাদন হবে তা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।

এ বিষয়ে ডিএসসিসি মেয়র সাঈদ খোকন এবারের বাজেট বক্তৃতায় বলেন, মাতুয়াইল ল্যান্ডফিল সম্প্রসারণ এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে ৭২৫ কোটি টাকার ‘মাতুয়াইল স্যানিটারি ল্যান্ডফিল সম্প্রসারণসহ ভূমি উন্নয়ন’ প্রকল্পের জন্য প্রায় ৮১ একর ভূমি অধিগ্রহণ করার কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় ল্যান্ডফিলের বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা খন্দকার মিল্লাতুল ইসলাম জানিয়েছেন, মাতুয়াইল ল্যান্ডফিল সম্প্রসারণের জন্য ৮১ একর জমি অধিগ্রহণের কাজ প্রায় শেষের দিকে। জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষে ল্যান্ডফিল সম্প্রসারণের কাজ শুরু করতে পারব।