মাছ উৎপাদনে সাফল্য

মাছ উৎপাদনে সাফল্য

মাছে-ভাতে বাঙালি পরিচয় অক্ষুন্ন রাখা যাবে কিনা সে প্রশ্নটি উদয় হয়েছিল স্বাধীনতার পরপরই। জনসংখ্যার দ্রুত বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক জলাশয়ের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এ প্রশ্ন মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৭ বছরে মাছ চাষ ক্রমশ বেড়েছে। গত একযুগে এ ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এ সময়ে বাংলাদেশে মাছ উৎপাদন বেড়েছে পাঁচগুণেরও  অনেক বেশি। অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে তৃতীয় এবং বদ্ধ জলাশয়ে অবস্থান পঞ্চমে। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) ২০১৫ সালের এক সমীক্ষায় বলা হয়। বাংলাদেশের ২৬০ প্রজাতির মধ্যে ৬৪ প্রজাতি বিলুপ্তির তালিকায়। বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে এবং চাষিদের বাণিজ্যিক চাষাবাদে উৎসাহিত করতে এর মধ্যে ১৯ প্রজাতির মাছের প্রজনন কৌশল ও জিনপুল সংরক্ষণ এবং চাষাবাদে আধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট।

প্রজাতিগুলো হলো টেংরা, গুতুম, পাবদা, গুলশা, মেনি, ফলি, দেশি সরপুঁটি, কৈ, শিং, মাগুর, গুজি, আইড়, বাটা, ভাগনা, গানিয়া, কালবাউশ, মহাশোল, চিতল এবং কুচিয়া। এ ছাড়া গবেষণার মাধ্যমে রুই এবং তেলাপিয়ার জাত উন্নয়নে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষাবাদে উৎসাহিত হয়েছে চাষিরা। দেশে মৎস্য সম্পদ উন্নয়ন গবেষণা পরিচালনার জন্য এটি একমাত্র জাতীয় প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশের জনসংখ্যা এখন ১৬ কোটি। নদ-নদী, খাল-বিল, পুকুরসহ জলাধারের সংখ্যা হ্রাস পেলেও আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষের জন্য উৎপাদন অন্তত দ্বিগুন করা সম্ভব। আমাদের মতে, কর্মসংস্থান এবং আমিষ চাহিদা পূরণে মাছ উৎপাদনে আরও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। দেশে পর্যাপ্ত হিমাগার নির্মাণের পাশাপাশি মাছ চাষিদের সহজ শর্তে ঋণদানের কথা ভাবতে হবে। রপ্তানি বাণিজ্যে প্রতি বছরই মাছের হিস্যা সন্তোষজনক হারে বাড়ছে। কর্মসংস্থানেও মাছ চাষ রাখছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামীতে মাছ হবে দেশের অন্যতম রপ্তানি পণ্য। জাতীয় সমৃদ্ধির চাবিকাঠি হিসেবেও তা বিবেচিত হবে।