মহেশখালীর বনভূমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব অনুমোদন

মহেশখালীর বনভূমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব অনুমোদন

আমদানি করা অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের ক্রুড সঞ্চালনের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালী থেকে চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত ডাবল পাইপ লাইন নির্মাণে মহেশখালী উপজেলার পাহাড় মৌজার প্রায় ২০০ একর বনভূমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার (১৪ মে) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে এ প্রস্তাবের অনুমোদন হয়। পরে বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বিষয়টি জানান।

এসময় তিনি বলেন, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) ‘ইনস্টলেশন অব সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং’ প্রকল্পের আওতায় পাহাড় মৌজায় বন অধিদফতরের নামে রেকর্ডভুক্ত সংরক্ষিত বনভূমির গাছপালা কর্তন ও অপসারণ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে ইস্টার্ন রিফাইনারি। তবে তিনটি শর্ত সাপেক্ষে প্রকল্পের জন্য ১৯১ দশমিক ২৫ একর বনভূমি ইজারা নিয়েছে বিপিসি।

শর্ত মোতাবেক প্রতি একরের জন্য বছরে দুই হাজার ৪০০ টাকা ভাড়া ও প্রকল্প এলাকার এক হাজার ৭০১টি গাছ কর্তনের ক্ষতিপূরণ বাবদ এক কোটি ৩৬ লাখ ৭৪ হাজার ৯৪৯ টাকা ১০ পয়সা দিতে হবে। এছাড়াও যে পরিমাণ গাছ কাটা হবে তার পাঁচগুণ গাছ রোপণ করে আগামী ১০ বছর পরিচর্যা করতে হবে বিপিসিকে।

অনেক গাছ কাটা হবে, পরিবেশ সংরক্ষণ সংগঠনগুলোর আপত্তি আসতে পারে এ বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে অনেক বিষয় জড়িত থাকে। জাহাজ থেকে তেল সহজে পরিবহন করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিকল্প জায়গা না পাওয়ায় পাইপ লাইন স্থাপনের জন্য পদ্ধতিগতভাবে জায়গাটি নেওয়া হয়েছে।

শফিউল আলম বলেন,  এ প্রকল্পটি ছাড়াও মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার সংরক্ষিত বনভূমির সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির গাছপালা কর্তন ও অপসারণের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা কমিটি। এ স্টেডিয়ামটির জন্য দুই একর ৩৪ শতাংশ জমি ব্যবহার করবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।

ক্ষতিপূরণের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রকল্প এলাকায় সামাজিক বনায়নের রোপণ করা আম, কাঠাল, জামসহ বিভিন্ন প্রজাতির এক হাজার ৫৪৬টি গাছ কাটার ক্ষতিপূরণ বাবদ ২৩ লাখ ৬৬ হাজার ৯৬ টাকা দিতে হবে। এর ৭০ শতাংশ পাবে উপকারভোগীরা। বাকি অর্থ পাবে যাদের জায়গায় গাছ রোপণ করা হয়েছিল তারা।

সভায় পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবকে সাউথ এশিয়ান সহযোগী পরিবেশ কর্মসূচি সাসেপ-এর ১৪তম পরিচালনা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত করার বিষয়টি মন্ত্রিপরিষদকে অবহিত করা হয়। এছাড়াও এশিয়া প্যাসিফিক ক্লিন এয়ার পার্টনারশিপ জয়েন্ট ফোরামের সেমিনারে জ্যাকবের অংশগ্রহণের বিষয়টিও জানানো হয়।

বৈঠকে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট এর সফল উৎক্ষেপণে প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী ও অন্যান্য কর্মকর্তারা।

এছাড়া স্যাটেলাইটে ৫৭তম দেশ হিসেবে মর্যাদা পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী এবং তার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে অর্থমন্ত্রীর দেওয়া অভিনন্দন প্রস্তাব মন্ত্রিসভা গ্রহণ করে।

পরে লেখক, গবেষক, অধ্যাপক ও ভাষাসৈনিক স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত বুদ্ধিজীবী ড. মুস্তাফা নূরউল ইসলাম এবং সাবেক মন্ত্রী মাইদুল ইসলামের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করে মন্ত্রিসভা।