মহাসংকটের কবলে শেয়ার বাজার

মহাসংকটের কবলে শেয়ার বাজার

ভয়াবহ দরপতনের কবলে পড়ে দেশের শেয়ার বাজারে মূল্য সূচকের উল্টো যাত্রা শুরু হয়েছে, বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত সূচক ‘ডিএসই-৩০’ এবং ইসলামি শরিয়াহ ভিত্তিক পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ‘ডিএসই শরিয়াহ’ সূচকের পর মঙ্গলবার বড় দরপতনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্য সূচক ‘ডিএসইএক্স’ ও শুরুর অবস্থানের চেয়ে নিচে নেমে এসেছে। শেয়ার বাজারে এমন ভয়াবহ দরপতনের কবলে প্রতিনিয়ত পুঁজি হারাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাড়ছে অস্থিরতা, ক্ষোভ। পুঁজি হারিয়ে বিক্ষুব্ধ একদল বিনিয়োগকারী দরপতনের প্রতিবাদে মতিঝিলের রাস্তায় বিক্ষোভ করেন। এদিকে শেয়ার বাজারে ভয়াবহ দরপতন হলেও তার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না বিশ্লেষকরা। পতনের প্রবণতা দেখে অনেকেই বিস্মিত হচ্ছেন। তবে তারা মনে করছেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা সংকট আর সুশাসনের অভাবে শেয়ার বাজারে এই দুরবস্থা দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন চরম আস্থার সংকট ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যত অচলাবস্থার জন্য শেয়ার বাজারের এই পরিণতি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ও ২০১০ সালের শেয়ার বাজার ধসের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেছেন, গত দুই বছর ধরে একটি গ্রুপ সিন্ডিকেট শেয়ার বাজারে ভয়াবহ খেলায় মেতেছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা এ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে তাকিয়ে দেখছে। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের পথে বসিয়েছে। বস্তুত কারসাজির কারণে পুঁজি বাজারে বারবার ধস নামার পরও ক্ষুদ্র ও মাঝারি বিনিয়োগকারীদের মনে যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছিল, তা প্রশমনে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি আজও। টানা দরপতন, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভ, কারসাজির অভিযোগ, বিনিয়োগকারীদের নি:স্ব হওয়া- এসব পুরনো চিত্র। সব মিলিয়ে শেয়ার বাজারে চলা অস্থিরতা ও সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে যে সব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে কাজে আসেনি তাও। এমন পরিস্থিতি সংশ্লিষ্টরা সামগ্রিক পর্যবেক্ষণ করবে এবং সংকট অনুধাবন করে তা নিরসনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নিশ্চিত করবে এমনটি কাম্য।