মহান স্বাধীনতা দিবস

মহান স্বাধীনতা দিবস

মহান স্বাধীনতা দিবস ২৬ মার্চ আজ। জাতি এ বছর গৌরবদীপ্ত স্বাধীনতার ৪৭৩ম বার্ষিকী পালন করছে। এই দিন আমাদের মনে করিয়ে দেয় একাত্তরের বজ্র কঠিন সংগ্রাম ও হিরন্ময় বিজয়ের কথা। ১৬ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনীর পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বে বাংলাদেশ নামের যে নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তার ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল মার্চের এই ২৬ তারিখে স্বাধীনতার জন্য ৩০ লাখ মানুষকে আত্মোৎসর্গ করতে হয়েছে। নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, ভূ-খন্ডের সমন্বয়ে নিজস্ব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সশস্ত্র লড়াই শুরু হয়েছিল এই দিন। পশ্চিম পাকিস্তানি শোষকগোষ্ঠী ও তাদের বলদর্পী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে রক্তস্নাত সংগ্রাম শুরুর মধ্য শত শত বছরের আকাঙ্খা পূরণে অগ্রসর হয়েছিল এই ভূ-খন্ডে বঞ্চিত ও শোষিত গণমানুষ। ১৯৭০-এর নির্বাচনে নিরঙ্কুশভাবে জয়ী আওয়ামী লীগের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে অস্বীকার করে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ তারা রাতের আধারে ঝাঁপিয়ে পড়ে ঘুমন্ত মানুষের ওপর। শুরু হয় ইতিহাসের সবচেয়ে বর্বরতম গণহত্যা। জাতির এ ক্রান্তিলগ্নে ২৬ মার্চের শুরুতেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ডাক দেন সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের। দীর্ঘ নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধ শেষে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মাধ্যমে অর্জিত হয় মুক্তিযুদ্ধের মহিমান্বিত বিজয়। আজকের এই দিনে স্বাধীনতা যুদ্ধের সব শহীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও যারা নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন, তাদের সবাইকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা প্রদানকারী সব ব্যক্তিকে। পাল্টে যাচ্ছে বাংলাদেশ। দেশের পরিশ্রমী মানুষ পাল্টে দিচ্ছে বাংলাদেশকে। লেগেছে দিন বদলের ছোঁয়া। স্বাধীনতার মাসে বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার মর্যাদা দিয়েছে জাতিসংঘ। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুরদর্শিতার কারণে এ সাফল্যের স্বীকৃতি বাংলাদেশ অর্জন করছে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে এবং বিশ্ব দরবারে মাথা উচুঁ করে দাঁড়াবে - এমনটাই প্রত্যাশা প্রত্যেক বাঙালির।