মরদেহ নিয়ে দেশের পথে খোকার পরিবার

মরদেহ নিয়ে দেশের পথে খোকার পরিবার

অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক মন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার মরদেহ নিয়ে দেশের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা।

মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) রাতে নিউইয়র্ক থেকে খোকার মরদেহ নিয়ে রওনা দেন তারা। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ১০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছার কথা রয়েছে।

সাদেক হোসেন খোকার কফিনবাহী এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ইকে ২০২ নম্বর ফ্লাইটটি নিউইয়র্ক সময় মঙ্গলবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ১০টা ২০ মিনিট) দুবাইয়ের পথে রওনা দেয়। সেখান থেকে একই এয়ারলাইন্সের ইকে ৫৮২ নম্বর ফ্লাইটে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ১০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে।

এই ফ্লাইটে খোকার স্ত্রী ইসমাত হোসেন, বড় ছেলে ইশরাক হোসেন, ছোট ছেলে ইসফাক হোসেন, মেয়ে সারিকা সাদেকসহ বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক ডেপুটি মেয়র আব্দুস সালাম রয়েছেন।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার মরদেহ দেশে পৌঁছার পর বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন মরহুমের মরদেহ সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে। বাদ জোহর রাজধানীর নয়াপল্টন দলীয় কার্যালয়ের সামনে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। বিকেল ৩টায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে খোকার মরদেহ নেয়ার কথা রয়েছে। সেখানে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

সেখান থেকে খোকার মরদেহ নেয়া হবে গোপীবাগে তার নিজ বাসভবনে। বাদ আসর মরহুমের বাসভবন থেকে মরদেহ ধূপখোলা মাঠে নিয়ে যাওয়া হবে এবং সেখানে শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। খোকার অসিয়ত মোতাবেক জুরাইন কবরস্থানের বাবা-মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হবে সাদেক হোসেন খোকাকে।

ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত সোমবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে সাদেক হোসেন খোকার মৃত্যু হয়। স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন তিনি।

১৯৫২ সালের ১২ মে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন সাদেক হোসেন খোকা। ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং তার দল সরকার গঠন করলে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব লাভ করেন। পরে ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার দল সরকার গঠন করলে তিনি মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।

এরপর সরাসরি নির্বাচনে জয় লাভের মাধ্যমে ২০০২ সালের ২৫ এপ্রিল অবিভক্ত ঢাকার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন খোকা। ২০১১ সালের ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত তিনি মেয়র পদে দায়িত্ব পালন করেন।

কিডনি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ২০১৪ সালের মে মাসে চিকিৎসার জন্য নিউইয়র্কে যান সাদেক হোসেন খোকা। এরপর থেকে গত সাড়ে পাঁচ বছর ধরে থাকছিলেন নিউইয়র্ক সিটির ইস্ট এলমহার্স্ট এলাকার একটি ভাড়া বাসায়। সার্বক্ষণিক তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ইসমাত হোসেন।