২০ বছর ধরে পলিথিনের ঝুঁপড়ী ঘরে

মমেনা বেওয়ার ভাগ্যে জোটেনি বিধবা ভাতা

মমেনা বেওয়ার ভাগ্যে জোটেনি বিধবা ভাতা

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: অসহায় মমেনা বেওয়ার ভাগ্যে জোটেনি বিধবা ভাতা কিংবা সরকারি ঘর। পলিথিন দিয়ে ছোট্ট একটি ঝুঁপড়ী ঘরে বসবাস করছেন তিনি। আকাশে মেঘ দেখলেই দু’চোখ দিয়ে অঝরে পানি আসে মমেনার। বাকশক্তি নেই কাউকে বলার। কখন যেনো ছিঁড়া ফাঁড়া কাঁথাটি বৃষ্টির পানিতে ভিজে নষ্ট হয়। বৃষ্টি হলে দাঁড়িয়ে কেটে যায় রাত। ভিজে যায় তার গোছানো থালাবাসন। কেউ তাঁর খোঁজ রাখেনা। তারপরেও বৃদ্ধ বয়েসে জীবন সংগ্রাম করে বেঁচে আছেন মমেনা বেওয়া । তার বাড়ি ফুলবাড়ী উপজেলার নন্দিরকুটি গ্রামে।তার স্বামীর নাম মৃত কপুর উদ্দিন। মমেনা বেওয়া পলিথিনের ছোট্ট একটি ঝুঁপড়ী ঘরে থাকেন। নেই তার বেড়া। ঝুঁপড়ী ঘরের এক দিকে রান্না বান্না, অন্যদিকে থাকার বিছানা। যেদিন রাতে বৃষ্টি আসে, সেদিন বিছানার এক কোণায় দাঁড়িয়ে রাত কেটে যায় তাঁর।

 বৃষ্টির পানিতে সবকিছু ভিজে যায়। এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে তাঁর। অন্যের কাছে সাহায্য নিয়ে বিয়ে দিয়েছেন মেয়েটিকে। স্বামী হারিয়েছেন ত্রিশ বছর পূর্বে। সন্তান থাকলেও কোনো খোঁজখবর নেন না। স্ত্রী সন্তান নিয়ে আলাদা সংসার করছেন ছেলে। বৃদ্ধ বয়সে পলিথিন দিয়ে ছোট্ট একটি ঝুঁপরী ঘরে দিন কেটে যাচ্ছে। মানবেতর জীবন-যাপন করছেন তিনি। মমেনা বেওয়া কান্না জড়িত কন্ঠে জানান, বাহে মোর কিছুই নাই। ত্রিশ বছর আগে স্বামীকে হারাইছোং। মেয়েটা স্বামীর সংসারে ব্যস্ত। একমাত্র ছেলেটাও মোর খোঁজ রাখে না। স্ত্রী সন্তান নিয়ে আলাদা সংসারে থাকে। মুই বিশ বছর ধরি বৃদ্ধ বয়সে মানুষের বাড়িতে দিন মজুরী ও ঝিয়ের কাজ-কামাই করি বাছি আছোং! স্বামী মরিয়া মোর কপালোৎ জোটেনি বিধবা ভাতা বা একটি সরকারি ঘর !উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাছুমা আরেফিন জানান, নতুন ঘর বরাদ্দ আসলে তাকে দেয়া হবে। সেই সাথে ভাতার জন্য আবেদন করলে যাচাই বাচাই করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।