মমতাজ উদ্দিন ঃ রাজনীতির দু:সময়ের কান্ডারি

মমতাজ উদ্দিন ঃ রাজনীতির দু:সময়ের কান্ডারি

আতাউর রহমান মিটন  : আগামীকাল মহান ভাষা শহীদ দিবস। আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো পথ আমরা ভুলে যাইনি। মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লড়াই দিয়ে শুরু করে আমরা এখন বৈষম্যহীন, মানবিক ও উন্নত একটি রাষ্ট্র গড়ার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। লাখো শহীদের আত্মদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে, তাদেরই চেতনায় আমরা এগিয়ে যাচ্ছি ভালবাসায়। শুরুতেই তাই আমি মহান ভাষা আন্দোলনের সকল শহীদদের আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন ও শান্তি কামনা করছি।ভাষা আন্দোলন আমরাই শুরু করেছিলাম। বিশ্বে বাঙালিরাই একমাত্র জাতি যারা মায়ের ভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য রাজপথে আন্দোলন করেছিল। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারির সেই ঐতিহাসিক কাহিনী আমরা সকলেই জানি। কিন্তু বগুড়ার মানুষ হিসেবে আমি বায়ান্ন’র ভাষা আন্দোলনের দুটি গৌরব বিশেষভাবে অনুভব করি। তার একটি হলো, ১৯৫২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ছাত্রসভা থেকে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল সেই সভার সভাপতি ছিলেন বগুড়ার সন্তান গাজিউল হক। এ ছাড়াও ঢাকার বাইরে সম্ভবতঃ বগুড়ায় প্রথম প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। জ্ঞান তাপস ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ১৯৪৮ সালে বগুড়া আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষ থাকাকালে তিনি ‘সওগাত’ পত্রিকায় বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানিয়ে প্রবন্ধ লিখেছিলেন। ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ তারিখে আজিজুল হক কলেজের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে রাষ্ট্রভাষা বাংলার পক্ষে একটি মিছিল কলেজ থেকে বের হয়ে বগুড়া জিলা স্কুল মাঠে আয়োজিত সমাবেশে যোগ দিয়েছিল। বগুড়ার আজিজুল হক কলেজের সেদিনের সেই মিছিলে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।
বগুড়ার ছাত্ররা সেই ১৯৪৮ সালেই ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ শ্লোগান দিয়েছিলেন। বগুড়ার প্রগতিশীল ছাত্রসমাজ সবসময়ই রাষ্ট্রভাষা বাংলা প্রতিষ্ঠার দাবিতে সোচ্চার ছিলেন। ঢাকায় সূচিত আন্দোলনের পাশাপাশি তাঁরা বগুড়ার আকাশ-বাতাসও রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে প্রকম্পিত করে তুলেছিলেন। বগুড়া আজিজুল হক কলেজের একজন শিক্ষার্থী এবং বগুড়ার ছাত্র আন্দোলনের সাথে জড়িত হয়ে নিজেকে সেই গৌরবের একজন উত্তরাধিকারে পরিণত করার সুযোগ পেয়ে আজও আমি গর্বিত বোধ করি। আমাদের সেই গৌরবোজ্জ্বল ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক মীর ইকবাল হোসেন গত জানুয়ারিতেই না ফেরার দেশে চলে গেলেন। অন্য নেতাদের মধ্যে মরহুম আতাউর রহমান, গাজিউল হক, গোলাম মহিউদ্দীন, জালাল উদ্দিন বুটু, মাযহারুল ইসলাম আবু, হারুন উর রশীদ, রহিমা খাতুন, সালেহা খাতুন, আব্দুস শহীদ, মকসুদুল আলম, সাদেক আলী, রহিম চৌধুরী, জওহর মালিক, আলী হোসেন, নূরুল হোসেন মোল্লা, অধ্যাপক এবারক হোসেন, অধ্যাপক তরিকুল আলম প্রমুখেরা গত হয়েছেন আগেই। তাদের সকলের প্রতিও আমি আজ গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।  
আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের মহিমায় ভাস্বর মাস এই ফেব্রুয়ারিতে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি, মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মমতাজ উদ্দিন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি, ভোর চারটার দিকে চিকিৎসারত অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তিনি বগুড়ায় আওয়ামী রাজনীতির দুঃসময়ের কান্ডারি ছিলেন। আজকের তরুণ প্রজন্ম হয়তো জানেন না, কি রকম কষ্ট করে, বৈরী পরিবেশে তিনি দল সামলিয়েছেন। বিএনপি’র ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত বগুড়ায় আওয়ামী লীগ এর রাজনীতি এগিয়ে নেয়া সহজ না হলেও জননেতা মমতাজ উদ্দিন এর একনিষ্ঠ প্রচেষ্টা ও দৃঢ়তায় দলটি বগুড়ায় একটু একটু করে এগিয়ে আজকের এই অবস্থানে এসেছে।
মমতাজ ভাই এর সাথে আমি প্রথম পরিচিত হয়েছিলাম সম্ভবতঃ ১৯৮৬ সালে। বগুড়ায় শেখ হাসিনার আগমন ও জনসভা উপলক্ষে গঠিত স্বেচ্ছাসেবক টিমে আমার পাড়ার ছেলেদের সাথে প্রথম আমি মমতাজ ভাইয়ের সাথে দেখা করেছিলাম।  পরবর্তিতে, ১৯৮৭ সালের মার্চ মাস থেকে আমি বগুড়া জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুবাদে নব্বই দশকের স্বৈরাচার বিরোধি আন্দোলনে বহুবার তদানীন্তন ১৫ দলীয় নেতা মমতাজ ভাইয়ের সান্নিধ্যে এসেছি। রাজপথে তাঁর সাথে মিছিল করেছি, শহীদ খোকন পার্কের জনসভায় তাঁর সাথে বহুদিন অংশ নিয়েছি। এর বাইরেও বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের সে সময়ের সাধারণ সম্পাদক শাহাদৎ আলম ঝুনু, ছাত্রনেতা শান্ত মাহমুদ, আজিজুল হক কলেজ ছাত্র সংসদ এর এজিএস সাগর কুমার রায় এর ঘনিষ্ঠ বন্ধু হবার সুবাদে বহুবার মমতাজ ভাইয়ের সাথে দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে। তিনি সদালাপী এবং হাস্যোজ্বল মানুষ ছিলেন। কথা বলতেন সাধারণভাবে, কোন রাখ-ঢাক ছাড়াই। মমতাজ ভাই খুব দৃঢ় স্বভাবের মানুষ ছিলেন। তিনি সবার সাথে সদালাপ করতেন কিন্তু কাজ করতেন নিজের ইচ্ছায়। তিনি আপোষকামী মানুষ ছিলেন না। কে কি ভাবছে বা বলছে এসব নিয়ে খুব বেশি পাত্তা দিতেন না। নিজের প্রতি তাঁর আত্মবিশ্বাস ছিল প্রবল।
মমতাজ ভাই বগুড়ার গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে একজন অভিভাবক ছিলেন। নিজদলের কর্মিদের প্রতি তো বটেই, তিনি  বিরোধিদলের প্রতিও সদয় ছিলেন। বাংলাদেশের অন্য অনেক জেলার তুলনায় বগুড়ায় সরকার বিরোধি দলগুলো অপেক্ষাকৃত সুবিধাজনক অবস্থায় থেকে রাজনীতি করেছেন। বিরোধিদলের কর্মিদের নাস্তানাবুদ করার যে প্রচেষ্টা সারাদেশে বিরাজমান বলে শোনা যায়, বগুড়ায় সেটা বহুলাংশে কম ছিল। অনেকেই বলেন, তিনি নিজের জেলায় সবাইকে নিয়ে শান্তি ও সমঝোতা বজায় রেখে চলার চেষ্টা করেছেন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার যে হীন রাজনৈতিক সংস্কৃতি আমরা দেখে আসছি বগুড়ায় তার চেহারাটা একটু অন্যরকম ছিল। একটু নির্মোহভাবে বিশ্লেষণ করলেই রাজনৈতিক সহনশীলতা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার একটা সচেতন প্রচেষ্টা আমরা মমতাজ ভাইয়ের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে দেখতে পাব।  
বগুড়ার রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রবীণ এই অভিভাবকের চলে যাওয়ায় বর্তমানের নেতৃত্ব একজন ‘বড় ভাই’ হারাল। মমতাজ ভাইয়ের সুদীর্ঘ সংগ্রামী রাজনৈতিক জীবন থেকে আজকের প্রজন্মের অনেক কিছু শেখার আছে। বিশেষ কঠিন পরিস্থিতিতেও দলের আদর্শ বুকে চেপে কষ্ট ও নির্যাতনের মুখোমুখি অটল থাকার প্রেরণা মমতাজ ভাইয়ের রাজনৈতিক জীবন থেকে শেখার আছে। আমি বগুড়ার রাজনীতির  ‘বড় ভাই’, শ্রদ্ধেয় মমতাজ উদ্দিনের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি। মুক্তিযোদ্ধা মমতাজ উদ্দিন, সংগ্রামী সালাম গ্রহণ করুন। আপনার আত্মা শান্তিতে থাকুক।
রাজনৈতিক নেতাদের জীবনে ভুল হয় না তা নয়। আবার অনেক সময় তাদেরকে ব্যবহার করে দলের স্বার্থান্বেষী কর্মিরা। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে দলের ভেতরে বর্তমানে অনেকেই আছেন যাদের জীবনের পরিবর্তনকে একমাত্র ‘আশ্চর্য প্রদীপের দান’ ছাড়া অন্য কোনভাবে ব্যাখা করার উপায় নাই। দলের ত্যাগী নেতাদের অবদানকে অপব্যবহার করে এরা আজ ‘বিরাট কিছু’ হয়েছেন কিন্তু সেই তুলনায় দলের উপকারে, দেশের উপকারে নিবেদিত থাকেন নি। এদের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করা দরকার। দলকে আদর্শ ও ত্যাগের মহিমায় সমুজ্জ্বল করে সুষ্ঠুধারায় ফিরিয়ে আনা দরকার। এর জন্য সৎ, ত্যাগী ও তরুণ নেতৃত্বকে দায়িত্ব দিয়ে সামনে নিয়ে আসা দরকার। তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ে যদি তরুণ নেতাদের হাতে দায়িত্ব দেয়া হয় তাহলে রাজনীতিতে একটা গুণগত পরিবর্তন আনা সম্ভব। অভিজ্ঞদের মতে, দলকে এগিয়ে নেয়ার জন্য নতুনদের দায়িত্ব দেয়ার বিকল্প নেই। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনা সে পথেই হাঁটছেন। সম্প্রতি তিনি বলেছেন, বর্তমান মেয়াদ শেষে তিনি আর প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে চান না। বর্তমান মেয়াদই তাঁর শেষ মেয়াদ। এই সময়ের মধ্যে তিনি তরুণ নেতাদের জন্য সুযোগ তৈরি করে দিতে চান। গত বৃহস্পতিবার জার্মানীর শীর্ষ গণমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। জননেত্রী শেখ হাসিনার এই ঘোষণা নিঃসন্দেহে তাঁর দূরদৃষ্টি এবং দেশপ্রেম নির্দেশ করে। এ বছরের অক্টোবর নাগাদ দলটির যে সম্মেলন হতে যাচ্ছে সেখানে যতদূর সম্ভব দল ও সরকারের মধ্যে একটা স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরির প্রয়াস থাকবে। এটা করা সম্ভব হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথে বাংলাদেশ আরও একধাপ এগিয়ে যাবে। ক্ষমতাসীন দলের সেই সাফল্য দেখার জন্য আমরা উদগ্রীব হয়ে আছি।
রাজনীতিতে ‘সুইট লাই’ বা ‘মধুর মিথ্যা’ বলে একটা কথা প্রচলিত আছে। সম্মানিত নেতৃবৃন্দ অনেক কথা বলেন, প্রতিশ্রুতি দেন, ক্ষমতায় গিয়ে সবকিছু বদলে ফেলার কথা বলেন কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় ক্ষমতায় গিয়ে তাঁরা নিজেরাই বদলে যান। শুরু হয় একপক্ষ কর্তৃক অন্যপক্ষকে ঘায়েল করার চেষ্টা। আর এটা করতে গিয়েই তাঁরা অবলীলায় ‘সুইট লাই’ বা ‘মধুর মিথ্যা’র আশ্রয় নেন। এই মিথ্যাচারে আমরা একধরনের অভ্যস্ত হয়ে গেছি বলা যায়। আমাদের জনগণ সবই বোঝে কিন্তু ঠেকাতে পারে না। ভোটাধিকার ছিল জনগণের ক্ষমতা অনুশীলনের একমাত্র মাধ্যম কিন্তু সেটাও এখন প্যারালাইজড্্ হয়ে গেছে। সাধারণ মানুষ আশা করে, এই অবস্থার পরিবর্তন হবে।
রাজনীতিকে নতুনদের হাতে ছেড়ে দিতে হবে গুণগত পরিবর্তন নিয়ে আসার জন্য। আমরা পুরাতন নেতৃত্বের কাছ থেকে নতুন ধারার রাজনীতি আশা করতে পারি না। এটা তাদের অনাগ্রহ নয়, সীমাবদ্ধতা। ব্যক্তিগত পরিসরে লক্ষ্য করলে দেখবেন, আমাদের বাবা-মা এবং আমাদের সন্তানদের চিন্তাধারা ও কর্ম প্রয়াসের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। এই পার্থক্য বাস্তব এবং এটাই হওয়ার কথা। এখানে মন খারাপ করার কিছু নেই। আমাদের বাবা-মা তাদের দেখা দুনিয়া এবং অভিজ্ঞতার আলোকে পারিচালিত। অন্যদিকে আমাদের সন্তানরা অত্যাধুনিক ডিজিটাল দুনিয়া থেকে পাওয়া জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার আলোকে পরিচালিত হয়। উভয় জেনারেশনের এই গ্যাপটা মেনে নিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। সে কারণেই বর্ষিয়ান নেতাদের অবমূল্যায়ন নয় বরং আমি ঐ অভিজ্ঞতাকে অধিক মূল্যবান গণ্য করে যুগের চাহিদার আলোকে তা ঢেলে সাজানোর প্রস্তাব করছি মাত্র। তরুণদের সুযোগ দিন। ওরা আমাদের জন্য একটা উন্নত বাংলাদেশ ঠিকঠাক গড়ে দেবে। আমি নিরাপদ খাদ্য আন্দোলনের একজন কর্মী হিসেবে জানি যে, একই তেল বারবার ব্যবহার করলে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। দলেও সম্ভবতঃ তাই।
অচলাবস্থার সমালোচনা করাটাই যথেষ্ট নয়। পরিবর্তনের জন্য কাজ শুরু করতে হবে। দায়িত্ব নিতে হবে। উন্নত বাংলাদেশ গড়ার জন্য তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে নতুন চিন্তা নিয়ে। পুরনো অভ্যাস দিয়ে নতুন পৃথিবী গড়ে তোলা যাবে না। শহীদের আত্মদানকে শুধু শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ নয়, বরং তাদের আত্মদান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের জন্য। রফিক, সালাম, বরকত, জব্বারসহ নাম না জানা শত শহীদের আত্মারা আজও অপূর্ণতায় ঘুরে ফিরছে কিনা সেই বিশ্লেষণটা করতে হবে। সাম্য ও সম্প্রীতির সমাজ গড়ে তুলতে হবে। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। বাংলায় ভাসতে হবে, বাংলায় হাসতে হবে, গাইতে হবে গান বাংলায়। ভাষা শহীদ দিবস অমর হোক।

লেখক: সংগঠক-প্রাবন্ধিক
[email protected]
০১৭১১-৫২৬৯৭৯