মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য

মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য

ধানের বাম্পার ফলন হলেও এদেশে কৃষক তার উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পায় না। প্রতি বছর বাড়ছে ধানের উৎপাদন ব্যয়। অথচ কমছে উৎপাদিত ধানের দাম। মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বাড়ছে বলে সরকার গর্ব করে। তাহলে ধান-চালের দাম পায় না কেন কৃষক? কৃষক মূল্যস্ফীতির অর্থ হয়তো ঠিকভাবে বোঝে না, কিন্তুু নিশ্চিতভাবেই তারা এর চরম শিকার। চাল-ডাল মাছ থেকে শুরু করে ধান ফলানোর সার বীজ সেচের পানি, এক কথায় সবই তাদের হয় চড়া দামে। জীবন যাপনে ব্যয়ের পরিমাণ বাড়ছে। উৎপাদিত প্রধান ফসলের দাম না পেলে সংসারের ব্যয়ের পরিমাণও বাড়ছে। উৎপাদিত প্রধান ফসলের দাম না পেলে সংসারের ব্যয় কীভাবে বহন করবে? উৎপাদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে বিপণন ব্যবস্থার সমন্বয় করা না গেলে পুরো বিষয়টিই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।

এতে সামগ্রিক উন্নয়ন প্রক্রিয়া থেমে যাওয়ার উপক্রম হয় যার সুদূর প্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়ে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সরাসরি জড়িতদের ওপর। ধান-চালের ভরা মৌসুমে একদিকে কৃষকরা পণ্যের ন্যায্য মূল্য বঞ্চিত হন অপরদিকে পাইকাড়ি ও খুচরা বাজারে মূল্যজনিত কারণে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠে। দীর্ঘদিন ধরেই দেশের ব্যবসায়ীরা এমন প্রক্রিয়া চালিয়ে এলেও অজ্ঞাত কারণে সরকার নিশ্চুপ থাকে। সরকারিভাবে ধান-চাল ক্রয় করা হলেও তা ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হয়। সবকিছু মধ্যস্বত্বভোগী দালাল-ফড়িয়াদের নিয়ন্ত্রণে। ফলে বিষয়টির কোনো সুরাহা হয় না। সরকারকেই কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে হবে। শুধু নিজেদের কৃষি বান্ধব দাবি করলে সব সমস্যার সমাধান হবে না। পেঁয়াজ নিয়ে যা চলছে তাতে কৃষকের কোন ফায়দা নেই। অদৃশ্য সিন্ডিকেট পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে প্রায় মাস খানেক হলো পেঁয়াজের দাম ১০০ টাকার ওপর। এখন ১৩০-১৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে বগুড়ায়। এখানেও কৃষক নেই। বাজার মজুতদারদের হাতে এ থেকে সাধারণ মানুষও কৃষককে মুক্তি দিতে হবে।