মওদুদকে ২ লাখ ৪১ হাজার ভোটে হারালেন কাদের

মওদুদকে ২ লাখ ৪১ হাজার ভোটে হারালেন কাদের

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে ক’টি আসনে হেভিওয়েট প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, তার মধ্যে নোয়াখালী-৫ আসন অন্যতম। নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট থানা নিয়ে গঠিত ২৭২তম এই সংসদীয় আসন। যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমান সরকারের সড়ক, সেতু ও যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রী (এরশাদ সরকারের আমলে), আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী (বিএনপি সরকারের আমলে) ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

সারা দেশের যে ক’টি আসন ছিল সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে, এর মধ্যে নোয়াখালী-৫ অন্যতম। দুই দলের দুই সেরা প্রার্থীর লড়াইয়ে কে জেতে, কে হারে- এ নিয়ে জ্বল্পনা-কল্পনার কমতি ছিল না ভোটার থেকে শুরু করে সারা দেশের সব দলের মানুষের মধ্যে। বিশেষ করে নোয়াখালীর মতো জায়গায়, যেখানে সব সময়ই বিএনপি কিংবা ধানের শীষের প্রতীকের জয়জয়কার থাকে, তখন মওদুদের সাথে ওবায়দুল কাদেরের লড়াইটা যে হাড্ডাহাড্ডি হবে, তা বলাই বাহুল্য।


তার ওপর, নির্বাচনের আগে নোয়াখালীর এই আসনটিতে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনাও সবার মনে বেশ আতঙ্ক এবং জ্বল্পনার জন্ম দিয়েছিল। কিন্তু আজ (রোববার) সারাদিন ভোটগ্রহণ শেষে যখন গণনা শুরু হলো, তখন সারা দেশে অন্য আসনগুলোর মতোই একতরফাভাবে মহাজোট তথা আওয়ামী লীগের জয়জয়কার এই আসনেও।

দিন শেষে ১২৩টি কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষে (বেসরকারি ফলফলে) দেখা যাচ্ছে বিপুল ব্যবধানে মওদুদ আহমদকে হারিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৩১ হাজার ৭৩৫ জন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মওদুদ আহমদ পেয়েছেন মাত্র ১০৯৭০ ভোট।

অর্থাৎ, বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী মওদুদ আহমদকে ২ লাখ ৪১ হাজার ৭৭৪ ভোটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছেন ওবায়দুল কাদের।

এর আগে এই আসন থেকে ৫ বার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ওবায়দুল কাদের। জিতেছিলেন ৩ বার। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি জিতেছিলেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। ২০০৮ সালেও মওদুদ আহমদে পরাজিত করেছিলেন তিনি। সেবার ভোট পেয়েছিলেন ১১২৫৭৫টি। ২০০১ সালের নির্বাচনে হেরেছিলেন মওদুদের কাছে। সেবার তিনি ভোট পান ৪৫৯৭২টি। এর আগে প্রথমবার তিনি বিজয়ী হয়েছিলেন ১৯৯৬ সালে। সেবার ভোট পেয়েছিলেন ৪০২৮০টি। ১৯৯১ সালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান। তখন ভোট পেয়েছিলেন ২৭৯১৭টি।

মওদুদ আহমদ এর আগে চারবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে এই আসনে জিতেছিলেন ২ বার। ১৯৯১ সালে সংসদীয় নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেলেন জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে। সেবার ৩১৪৪৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। ১৯৯৬ সালে হেরে যান ওবায়দুল কাদেরের কাছে। সেবারও ছিলেন জাতীয় পার্টিতে, নির্বাচন করেন লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে। ২৮৭৪৪ ভোট পেয়ে পরাজিত হন।

২০০১ সালে নির্বাচন করেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে। এবার তিনি হারান ওবায়দুল কাদেরকে। পেয়েছিলেন ৮৪৫৭৮ ভোট। ২০০৮ সালের নির্বাচনে হেরে যান সেই ওবায়দুল কাদেরের কাছেই। তবে ভোট পেয়েছিলেন ১১১২০৪টি। কিন্তু সেই মওদুদ আহমদ এবার পেলেন মাত্র ১০৯৭০ ভোট।