ভয়ঙ্কর গ্যাস সিলিন্ডার

ভয়ঙ্কর গ্যাস সিলিন্ডার

গৃহস্থালি, যানবাহন ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে গত কয়েক বছরে দেশে সকল প্রকার গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বাজারে সব কোম্পানি মান বজায় না রাখায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দুর্ঘটনা এবং এতে হতাহতের সংখ্যাও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। ফায়ার সার্ভিস, তিতাস গ্যাস, বিস্ফোরক পরিদপ্তরের তথ্য মতে, গত এক দশকে সারা দেশে গ্যাস বিস্ফোরণ সংক্রান্ত বিভিন্ন দুর্ঘটনার কমপক্ষে ৫০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন কয়েক হাজার। চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত নিহত হয়েছেন শতাধিক, আহত প্রায় ২০০ জন। সব মিলিয়ে দৈনন্দিন ব্যবহার্য গ্যাস সিলিন্ডার এখন মৃত্যুদূতে পরিণত হয়েছে। যে গ্যাস ব্যবহার করা হয় তা নির্দিষ্ট মানদন্ড অনুযায়ী উৎপাদন করা হয় কিনা, ব্যত্যয়ী উপাদান ব্যবহার করা হয় কিনা এসব প্রশ্নও ওঠে। সিলিন্ডারের মান সময়ে সময়ে যাচাই করা হয় কি? নিরাপত্তাবিধি মেনে এসব ব্যবহারের জন্য বিক্রেতাদের সচেতন করা হয় কি? জননিরাপত্তার জন্য ত্রুটিপূর্ণ সিলিন্ডার ঝুঁকিপূর্ণ। এ ছাড়া সড়ক-মহাসড়কে সিএনজি চালিত যানবাহনগুলোর প্রায় ৫ লাখ গ্যাস সিলিন্ডার ভয়ঙ্কর অবস্থায় রয়েছে।  বর্তমানে দেশে রূপান্তর ও আমদানিকৃত মিলিয়ে ৫ লাখ ৪ হাজার ৩০০ যানবাহন সিএনজিতে চলছে। এসব যানবাহনে ১ থেকে ৪টি পর্যন্ত সিলিন্ডার সংযোজিত হয়েছে। সে হিসাবে ৬ লাখেরও বেশি গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে চলছে যানবাহনগুলো। দেশের সিএনজি খাত নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লি. (আরপিজিসিএল) এর আগস্ট পর্যন্ত সর্বশেষ হিসাবে জানা গেছে, গত ২২ বছরে মাত্র ৯৩ হাজার ১৮১টি সিলিন্ডার পুন:পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষার বাইরে রয়ে গেছে ৫ লাখের বেশি যানবাহন। ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝে মাঝেই দুর্ঘটনা ঘটছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সংস্থার উচিত ব্যবহার্য উপকরণাদির শুদ্ধতা নিশ্চিত করা, সেগুলোকে ঝুঁকিমুক্ত রাখার ব্যবস্থা করা। যে সব উপকরণ, উপাদান ঝুঁকির কারণ, সেগুলোর ব্যবহার বন্ধ করা এবং বিকল্প নিরাপদ উপকরণ-উপাদানের ব্যবস্থা করা।