ভোলাহাটে রেশমের বাম্পার ফলন হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে

ভোলাহাটে রেশমের বাম্পার ফলন হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সংবাদদাতা : চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে চলতি মৌসুমে রেশমের বাম্পার ফলন হয়েছে। হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে। কয়েক দশকের টানা লোকসানের পর গত দুবছর যাবৎ লাভের মুখ দেখছেন চাষীরা। এ অঞ্চলে এক সময়ের লাভজনক রেশম চাষ এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। অথচ কৃষক আর স্থানীয়দের দাবী বিখ্যাত রাজশাহী সিল্কের মূলত:উৎপত্তি এই এলাকাতেই।  গত কয়েক দশকে ভারত,চীনসহ বিদেশ থেকে কম শুল্কে আমদানী করা আর চোরাচালানে আসা সুতা,আমগাছের আগ্রাসন,পুরোনো প্রযুক্তি,সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাব,পূঁজি স্বল্পতা,প্রাকৃতিক দূর্যোগ, রেশম কীটের ডিম,কীট,তাদের খাবার তুঁতে গাছের পাতার রোগবালাই ইত্যাদি কারণে দেশী রেশমের চাহিদা আর মূল্য কমে যায়। ফলে অব্যহত লোকসানের মুখে অনেকেই এই কাজ ছেড়ে অন্য পেশায় ঝুঁকে পড়েন। উৎপাদন একেবারে কমে যায় রেশমের।কিন্তু এখন ওইসব পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে।এদিকে  বংশ পরম্পরার কারণে ছাড়তে না পারায় ভোলাহাটে এখনও টিকে রয়েছেন অল্প কিছু চাষী (স্থানীয় ভাষায় বসনী)। শুধু ভোলাহাটে তালিকায় তারা ১৬০ জন । ভোলাহাট জোনে ২১৭ জন । অর্থাৎ চাঁপাইনবাবগঞ্জের রেশম চাষ এখন মূলত: টিকে রয়েছে ভোলাহাটকে ঘিরেই। বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের সদর দপ্তর রাজশাহীতে। আর চাঁপাইনবাবগঞ্জের চারটি উপজেলা ভোলাহাট,শিবগঞ্জ,গোমস্তাপুর ও নাচোল মিলিয়ে বোর্ডের ভোলাহাট জোন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর যুক্ত রাজশাহীর সাথে।

ভোলাহাট জোনের দায়িত্বে রয়েছেন সহকারী পরিচালক কাজী মাসুদ রেজা। ভোলাহাটে ফার্ম ম্যানেজারের দায়িত্বে রয়েছেন মাইনুল ইসলাম। তাঁদের আর চাষীদের সাথে কথা বলে জানা গেল, বোর্ডের শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রচন্ড জনবল সংকটের মধ্যেও দীর্ঘদিন থেকে নিবিড়ভাবে কাজ করছেন হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী রেশম চাষ আর চাষীদের সাথে। তাদের লক্ষ  বিলুপ্তপ্রায় রেশমকে  আবারও ফিরিয়ে আনা।তারা প্রতিনিয়ত চাষীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ খবর নেন। বাজারজাত সমস্যা না থাকা,প্রযুক্তির উন্নয়ন ও সরকারের বর্তমান কিছু পদক্ষেপে তাদের আশা দৃঢ় হয়েছে। ভোলাহাট চরধরপুরের পুরোনো বড় চাষী মো. ছমিরুদ্দিন। এই বন্দে তিনি ৬শ’ ডিম নিয়েিেছলেন। তিনি সহ স্থানীয় এলাকাবাসী আর অন্য চাষীদেরও আশা, আবার রেশম চাষের সুদিন ফিরবে।   

কর্মকর্তা ও চাষীরা জানান, বছরে রেশম চাষের তিন মাস করে চারটি মৌসুম। এগুলোকে বলা হয় বন্দ। চারটি বন্দ হল ভাদুরী,অগ্রায়হণী,চৈতা ও জৈষ্ঠা। ভাদুরী বন্দের ফসল উঠা শেষের পথে। এই বন্দে জোনে প্রায় ২৩ হাজার রেশম কীটের ডিম সরবরাহ করা হয়। ডিম আর তুঁতে গাছের চারা বোর্ড সরবরাহ করে। চাষীরা নিজস্ব কোন ঘরে বিশেষ পদ্ধতিতে ডিম প্রতিপালনে রেশম কীটের লার্ভার জন্ম হয়। সেই লার্ভা নিজ দেহের চারদিকে লালা নির্গত করে রেশম গুটি তৈরী করে। ওই গুটি থেকেই কৃষকরা নিজেরাই  উৎপাদন  করে রেশম সুতা। পরে ওই লার্ভা থেকে রেশম প্রজাপতি হয়। প্রজাপতি থেকে আবার ডিম  হয়। কিন্তু সে ডিমে কীট হয় না। বোর্ড  বিশেষ পদ্ধতিতে ডিম  ও তুঁত গাছের চারা উৎপাদন করে বিনামূল্যে আর নামমাত্র মূল্যে সরবরাহ করে।কর্মকর্তারা বলেন, নিজস্ব, লীজ নেয়া ও সরকারী জমি মিলিয়ে এখন প্রায় দুশ বিঘা জমিতে তুঁতে গাছ থাকলেও অবিলম্বে আরও দুশ বিঘা জমিতে গাছ লাগানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। নতুন করে তালিকা করা হয়েছে আরও দুশ চাষীর।