ভোটে ভরাডুবি কংগ্রেসে পদত্যাগের হিড়িক : শীর্ষ বৈঠক আজ

ভোটে ভরাডুবি কংগ্রেসে পদত্যাগের হিড়িক : শীর্ষ বৈঠক আজ

করতোয়া ডেস্ক : লোকসভা নির্বাচনে শোচনীয়ভাবে পরাজয়ের পর আজ শনিবার দলীয় বৈঠক ডেকেছে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস। এ দিন স্থানীয় সময় সকাল ১১টার দিকে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে দলটির কার্যকরী কমিটির শীর্ষ নেতৃত্ব অংশ নেবে। দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, সোনিয়া গান্ধীসহ দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা এতে অংশ নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম থেকে এ তথ্য জানা যায়। দলটির পরবর্তী করণীয় এবং নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা হতে পারে নির্বাচনে বড় ধাক্কা খাওয়ার পরের এ বৈঠকে। এদিকে, গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে দলের নির্বাচনে পরপর দুইবার ভরাডুবির দায় নিজেদের কাঁদে নিয়ে কংগ্রেস নেতারা পদত্যাগ করতে শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যেই কংগ্রেসের উত্তর প্রদেশের প্রধান রাজ বাব্বরসহ তিন রাজ্যপ্রধান রাহুল গান্ধীর কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। রাহুলের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন কর্ণাটক কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা এইচকে পাতিলও।

 তিনি এবারের নির্বাচনে প্রচার ব্যবস্থাপনা সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। সূত্র বলছে, এসব বিষয়েও আলোচনা হবে বৈঠকে। এছাড়া কংগ্রেসের ঐতিহ্যবাহী আসন বা গান্ধী পরিবারের সবসময়ই জয়ী হয়ে আসা নির্বাচনকেন্দ্র উত্তর প্রদেশের আমেথিতে রাহুলের হেরে যাওয়ার বিষয়েও আলোচনা হবে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকটিতে। কংগ্রেসের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতার বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম বলছে, কংগ্রেস সভাপতি রাহুলের আমেথিতে হেরে যাওয়ার বিষয়টি আজ শনিবারের বৈঠকে প্রধান আলোচ্য বিষয় হিসেবে থাকবে। ভোটগ্রহণসহ প্রায় দুই মাসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বৃহস্পতিবার গণনা করা হলে, তাতে কংগ্রেসকে টেক্কা দিয়ে বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে যায় ক্ষমতাসীন দল বিজেপি তথা এর জোট। ৫৪২টি আসনের মধ্যে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট পায় মাত্র ৮৩টি। আর বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএ প্রায় ৩৫০টি। এছাড়া এনডিএ জোটের ২৯০টি আসনই এককভাবে পেয়ে বসে বিজেপি; যেখানে সরকার গঠন করতে লাগে ২৭২টি আসন। লোকসভা নির্বাচনে টানা দ্বিতীয়বার ভরাডুবির পর পদত্যাগের গুঞ্জন রয়েছে রাহুলেরও।

 আজ শনিবার দলের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী কমিটির কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। ভারতের ১৭তম লোকসভা নির্বাচনে মোটেও সুবিধা করতে পারেননি কংগ্রেস সভাপতি। নির্বাচনী প্রচারণায় তার ‘চৌকিদার চোর’ স্লোগান একেবারেই ব্যর্থ হয়েছে। বলা হয়, উত্তর প্রদেশ যাদের, ভারত সরকার তাদের। সেখানকার ৮০টি আসনের মধ্যে এবার কংগ্রেস পেয়েছে মাত্র একটি আসন। রাহুল গান্ধীর বোন প্রিয়াংকা গান্ধীকে সাধারণ সম্পাদকের পদ দিয়ে জোর প্রচারণা চালালেও লাভ হয়নি তাতে। রাজ্যের একমাত্র জেতা আসনটি হচ্ছে সোনিয়া গান্ধীর রায়েবারেলি। ফতেহপুর সিকরি আসন থেকে কংগ্রেসের হয়ে নির্বাচন করেছেন প্রখ্যাত বলিউড অভিনেতা রাজ বাব্বর। জিততে পারেননি তিনিও। একারণে, দলের ভরাডুবির দায় নিজের কাঁধে নিয়েছেন এ নেতা। বৃহস্পতিবার এক টুইট বার্তায় রাজ বাব্বর বলেন, উত্তর প্রদেশে কংগ্রেসের ফলাফল লজ্জাজনক। নিজের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করতে না পারায় নিজেকে দোষী মানছি। দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দেখা করে আমার সিদ্ধান্ত জানাবো। এ সময় জনগণের ভরসা জেতায় নির্বাচনে বিজয়ীদের অভিনন্দনও জানিয়েছেন তিনি।