ভোটে না যেতে টালবাহানায় বিএনপি: কাদের

ভোটে না যেতে টালবাহানায় বিএনপি: কাদের

নির্বাচনে না যাওয়ার জন্য বিএনপি নানা ধরনের ‘টালবাহানা’ করছে বলে মন্তব্য করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বিএনপিকে নির্বাচন থেকে বাদ রাখতে সরকার ‘ষড়যন্ত্র’ করছে বলে দলটির নেতাদের অভিযোগের পাল্টায় তার এই মন্তব্য এল।

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী কাদের শুক্রবার রাজধানীর শনির আখড়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নির্মিত দুটি ফুটওভারব্রিজ উদ্বোধন করতে গিয়ে বিএনপিকে নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, “বিএনপির কাজকর্ম দেখে, তাদের কথাবার্তা শুনে মনে হচ্ছে, তারা নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার টালবাহানা করছে। এজন্য তারা নানা ছলচাতুরির আশ্রয় নিচ্ছে।”

দশম সংসদ নির্বাচন বর্জনের পর একাদশ নির্বাচনের আগেও বিএনপি নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি তুলেছে, যা প্রত্যাখ্যান করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলার রায় ঘিরে বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, তাদের নির্বাচন থেকে বাইরে রাখতে দলীয় চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে ‘সাজানো রায়’ দেওয়া হচ্ছে।

বিএনপির জাতীয় কমিটির সভা করতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে দলটির নেতারা অভিযোগ করছেন। বিএনপির জাতীয় কমিটিকে ‘জ্যাম্বো জেট মার্কা’ কমিটি আখ্যায়িত করে কাদের বলেন, “তাদের আর ছোটখাটো হোটেলেও জায়গা হচ্ছে না। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট বা কোথাও তাদের জায়গা হচ্ছে না, তারা ৫০০ লোক কোথায় বসাবে? ৫০০ জনকে বসাতে হলে তো লো মেরিডিয়ানের মতো হোটেলেই যেতে হবে।”

রায় নিয়ে বিএনপি নেতাদের অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, “বেগম জিয়ার মামলার রায় এখনও হয় নাই। কিন্তু এর আগেই তারা রায় কী হবে, তা বলে দিচ্ছেন। বিরুদ্ধে গেলে তারা আন্দোলন করবেন। বিলাসবহুল হোটেলে বসে তারা জনগণের জন্য আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।”

খালেদা জিয়ার মামলার রায় ঘিরে আ্ওয়ামী লীগের কোনো কর্মসূচি নেই বলেও জানান দলটির সাধারণ সম্পাদক। “কোনো কর্মসূচি দিয়ে আমরা মানুষের উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা বাড়াতে চাই না। আমাদের কোনো কর্মসূচি নেই। তবে জনগণের জানমাল, নিরাপত্তা রক্ষায় আমরা সতর্ক থাকব, সচেতন থাকব। বিশৃঙ্খলা হলে জনগণই সমুচিত জবাব দেবে।”

গ্রেপ্তারের নামকে কাউকে হয়রানি না করতে ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনারকে বলা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী কাদের। “আমি কিছুক্ষণ আগে ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে কথা বলেছি। আমি দুয়েকটা পত্রিকায় দেখলাম যে গ্রেপ্তারের নামে নিরীহ মানুষকে হয়রানির শিকার হচ্ছে। আমি কমিশনারকে বললাম যেন এটা কোনো অবস্থাতেই না হয়।”

অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী জানান, সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এ দুটি ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। ফুটওভারব্রিজ ব্যবহারে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন,“ আমাদের জনগণ ফুটওভারব্রিজের জন্য দাবি করে। কিন্তু ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের পর তাতে আর কেউ উঠতে চায় না। ফুটওভারব্রিজগুলো অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকে।

“অনেক সময় দেখা যায় কাছেই ফুটিওভারব্রিজ, কিন্তু নিচের সড়ক দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছে। এসব বিষয়ে জনগণকে সচেতন হতে হবে।” আইন করে ‘ভিআইপি কালচার’ও পরিবর্তন করা যাবে না মন্তব্য করে এজন্য মানসিকতা পরিবর্তনের উপর জোর দেন কাদের।

“আমাদের দেশে যারা অসাধারণ মানুষ, যাদেরকে আমাদের দেশে ভিআইপি বলা হয়, তারা উল্টোপথে চলতে অভ্যস্ত। হুটার ব্যবহার করা, জোর করে রাস্তা ব্যবহার করা, উল্টোপথে নিয়ে যা্ওয়ার জন্য পুলিশকে বাধ্য করা, এটা আমাদের ভিআইপি কালচার। তাই জনগণের মনমানসিকতা পরিবর্তন করতে হলে আমরা যারা ভিআইপি বলি, আমাদের মনমানসিকতাও পরিবর্তন করা দরকার।”