ভোটার তালিকা হালনাগাদ

ভোটার তালিকা হালনাগাদ

ভোটার তালিকা হাল নাগাদে কাল দেশজুড়ে ভোটারযোগ্য নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহে নামছে নির্বাচন কমিশন। এ যাত্রায় প্রায় ৮০ লাখ নাগরিকের তথ্য সংগ্রহ করা যাবে বলে ইসি কর্মকর্তাদের ধারণা। ২৩ এপ্রিল থেকে ১৩ মে পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের এই কাজ চলবে। যাদের বয়স ১৮ হয়নি, কিন্তু ১৬ পেরিয়েছে (২০০৩ সালের ১ জানুয়ারি বা তার আগে জন্ম), তাদের তথ্য নেওয়া হবে। ভোটার হওয়ার বয়স হলে তাদের তালিকাভুক্ত করে নেওয়া হবে-বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের পর ২৫ মে থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত নির্ধারিত কেন্দ্রে নাগরিকদের আঙুলের ছাপ সংগ্রহ ও নিবন্ধনের কাজ চলবে। ইসি সূত্র জানায়, ৫২ হাজার ৫০০ জন তথ্য সংগ্রহকারী, ১০ হাজার ৫০০ জন সুপারভাইজার ও ৭৮০ জন সহকারী রেজিস্ট্রেশন অফিসার এই কর্মযজ্ঞে নিয়োজিত থাকবেন। বর্তমানে দেশে ১০ কোটি ৪১ লাখ ৪২ হাজার ৩৮১ জন ভোটারের মধ্যে ৫ কোটি ২৫ লাখ ১২ হাজার ১০৫ জন পুরুষ আর ৫ কোটি ১৬ লাখ ৩০ হাজার ২৭৬ জন নারী। অর্থাৎ ভোটার তালিকায় পুরুষ ও নারীর অনুপাত ৫০.৪২:৪৯.৫৮। যারা এ কাজের দায়িত্বে রয়েছে তাদের মনে রাখতে হবে, ভোটার হওয়ার যোগ্য এমন কেউ যেন তালিকা থেকে বাদ না পড়ে। অতীতে আমরা লক্ষ্য করেছি নাম ঠিকানার ক্ষেত্রে নানা ধরনের জটিলতা দেখা দেয় অসাবধানতার কারণে। নির্বাচন কমিশনকে এসব বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। আমরা মনে করি, ভোটার তালিকা হাল নাগাদ করা যেমন কমিশনের দায়িত্ব, একইভাবে নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবিতর্কিত করার দায়িত্বও কমিশনের ওপরই বর্তায়। নির্বাচনে ভোটারদের সুষ্ঠুভাবে রায় প্রদানের সুযোগ সৃষ্টি ও নির্বাচন কমিশনের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। সাংবিধানিকভাবে নির্বাচন কমিশন স্বাধীন হলেও তাদের স্বাধীনতা সরকারের সদিচ্ছার ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষতার মানদন্ডে যেমন উত্তীর্ণ হতে হবে তেমন সরকারেরও উদার দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় দিতে হবে।