ভেনিসে ৫০ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বন্যা, জরুরি অবস্থা

ভেনিসে ৫০ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বন্যা, জরুরি অবস্থা

 

জোয়ারের পানি বেড়ে যাওয়ায় ভয়াবহ বন্যায় প্লাবিত হয়েছে ইতালির সেরা পর্যটন শহর ভেনিস। পানির উচ্চতা ১ দশমিক ৮৭ মিটার (৬ ফুট), যা গত ৫০ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।


শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানায়। 

খবরে বলা হয়, ইতালির ঐতিহ্যবাহী ভেনিস শহরটির ৮০ শতাংশ ডুবে গেছে বন্যায়। ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবন যাত্রা। একারণে বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রী গুইসেপ কন্তে শহরটিতে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। বন্যার প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতি থেকে বাঁচাতে ২০ মিলিয়ন ইউরো বরাদ্দ দিয়েছেন তিনি। 

শিক্ষা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ পানিতে তলিয়ে গেছে শহরটির অধিকাংশ এলাকা। বন্ধ রয়েছে সেখানকার সব স্কুল। রেস্তোরাঁসহ অন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। 

এছাড়া, ঐতিহ্যবাহী সব স্থাপনায় পানি ঢুকে যাওয়ায় বন্ধ রয়েছে সেগুলো। পর্যটকরাও ফিরে যাচ্ছেন আশাহত হয়ে।

শুক্রবার এমনকি সংসদ ভবনেও ঢুকে যায় পানি। এজন্য জলবায়ু পরিবর্তনকে দোষারোপ করেছেন শহরটির মেয়র লুইজি ব্রুঙ্গনারো। 

সেদিন ভেনিসের বিখ্যাত সেইন্ট মার্কস স্কয়ারে পানি ঢুকে যাওয়ায় তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। শহরটির প্রধান পরিবহন ব্যবস্থা নৌকা ভিত্তিক। এসব নৌকাকে বলা হয় ভ্যাপোরেত্তি। বন্যায় এই নৌকাগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। 

শহরটির আধুনিক চিত্রকলার গ্যালারি ‘কা পেজারো’য় বন্যার পানিতে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট হয়ে আগুন ধরে গেছে। এতে গ্যালারির বেশ ক্ষয়ক্ষতি হলেও ক্ষতির পরিমাণ জানায়নি কর্তৃপক্ষ। 

অনেকগুলো ছোট ছোট দ্বীপ নিয়ে তৈরি ভেনিস শহর। বন্যায় প্লাবিত হয়েছে শহরের অনেক বাসিন্দার ঘর-বাড়ি। প্যালেসট্রিনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন এক ব্যক্তি। এছাড়া, দ্বীপের অন্য অংশে আরেক ব্যক্তি মারা গেছেন।   

ভেনিসের সবচেয়ে বিলাসবহুল হোটেল গেরিত্তি প্রাসাদ, যা দাঁড়িয়ে আছে গ্র্যান্ড ক্যানেলের ওপর। সেটিও বন্যায় প্লাবিত হয়েছে।