ভেজালের দৌরাত্ম্য

ভেজালের দৌরাত্ম্য

খাদ্যে ভেজাল বাংলাদেশের এক জাতীয় অভিশাপের নাম। এমন কোনো খাদ্য পণ্য নেই যা ভেজাল মুক্ত বলে দাবি করা যায়। আমরা কী খাচ্ছি- এ প্রশ্ন আজ এক ধরনের আতঙ্কে পর্যবসিত হয়েছে। অবস্থাটা এমন খাদ্যে ভেজাল নাকি ভেজালে খাদ্য, তা নিয়েও চলে উপহাস। খাদ্যে মেশানো হচ্ছে বিষাক্ত সব রাসায়নিক দ্রব্য, যেগুলো খেয়ে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে ক্যান্সার, কিডনি ও লিভারের নানা দুরারোগ্য ব্যাধিতে। এর আগে জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এবং বাংলাদেশ সরকারের যৌথ ব্যবস্থাপনায় গড়ে ওঠা সর্বাধুনিক খাদ্য নিরাপত্তা গবেষণাগারের পরীক্ষায়ও ভয়াবহ চিত্রের প্রতিফলন ঘটেছে। বাজারে প্রাপ্ত ৪০ শতাংশ খাদ্যেই রয়েছে বিপজ্জনক মাত্রার ভেজাল ও বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য। ফলমূল, শাক সব্জি, মাছ-মাংস, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, চাল, হলুদের গুঁড়া, লবণ-নিত্য দিনের প্রায় প্রতিটি খাবারেই রয়েছে ভেজাল।

খাদ্যে যেসব বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করা হয়, এর মধ্যে রয়েছে বহু আগেই নিষিদ্ধ করা ডিডিটি থেকে শুরু করে ক্রোমিয়াম, আর্সেনিক, সিসা, ফরমালিন, অ্যালড্রিন, বেনজয়িক এসিড ইত্যাদি। এ অবস্থায় মানুষ কী খাবে, কিভাবে বেঁচে থাকবে- তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের এক গবেষক বলছে, ভোক্তারা বাজার থেকে কিনে যে মসলা রান্নায় ব্যবহার করছে তার ৯০ শতাংশই ভেজাল। সরকারি বিশেষজ্ঞ বলছেন, এসব মসলা দিয়ে তৈরি খাবার খেয়ে নানাবিধ রোগ মানব দেহে ছড়িয়ে পড়ছে। ভেজাল মেশানোর পেছনে ব্যবসায়ী ও উৎপাদকের প্রধান যে মন মানসিকতা কাজ করে তা হল অতিরিক্ত মুনাফার প্রবণতা। দেশে ভেজাল প্রতিরোধ দুরূহ। তাই বলে জনস্বাস্থ্য নিয়ে অবহেলা প্রদর্শনের সুযোগ নেই। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার
লক্ষ্যে সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে কার্যক্রম শুরু করতে হবে।