ভেজাল হুমকিতে জনস্বাস্থ্য

ভেজাল হুমকিতে জনস্বাস্থ্য

খাদ্যে ভেজাল ও বিষক্রিয়ার বিষয়টি নতুন কিছু নয়। সম্প্রতি দেশে এর ব্যাপ্তি যে হারে বাড়ছে তাতে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষ। জীবন রক্ষাকারী ওষুধ থেকে শুরু করে খাদ্য দ্রব্য এমনকি শিশু খাদ্য সবকিছুই তারা নকল করে বা ভেজাল মিশিয়ে বাজারে সরবরাহ ও বিক্রি করছে। খাদ্যে ভেজাল দিয়ে মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা যাবে না, এটা মানুষের মৌলিক অধিকার। স্বাস্থ্যই যদি ঠিক না থাকে তাহলে জাতি কীভাবে এগোবে ? বুধবার দুধ ও দইয়ে ভেজাল নিয়ে শুনানিকালে হাইকোর্ট এমন মন্তব্য করেন। ইতিপূর্বে গণমাধ্যমের প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছিল বাজারে প্রচলিত তরল দুধের ৯৬টির মধ্যে ৯৩টির নমুনাতে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান পাওয়া গেছে উল্লেখ করে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ একটি প্রতিবেদন দাখিল করেছে হাইকোর্টে।

জানা গেছে, বাজার থেকে সংগৃহীত কাঁচা তরল দুধের ৯৬টি নমুনার মধ্যে ৯৩টিতেই সীসা, অ্যান্টিবায়োটিক অনুজীব পাওয়া গেছে। প্যাকেটজাত দুধের ৩১টি নমুনার মধ্যে ১৮টিতেই ভেজাল পাওয়া গেছে। এ ছাড়া দুধ ও দইয়ে উচ্চ মাত্রার বিভিন্ন রাসায়নিক পাওয়া গেছে। এর আগে গত ১১ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে গরুর দুধ, দই এবং গো-খাদ্যে কী পরিমাণ ব্যাকটেরিয়া, কীটনাশক, সীসা রয়েছে তা নিরূপণের জন্য একটি জরিপ পরিচালনার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। খাদ্য, পানীয় কিংবা জনগণের স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলোতে সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে। তা না হলে পুরো দেশটিকে হাসপাতাল বানালেও জনস্বাস্থ্যের জন্য বিশেষ উপকার হবে না। আমরা দেশের উচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপে আশান্বিত, তবে শুধু উচ্চ আদালতের ওপর নির্ভর করে থাকলে চলবে না- এটা সরকারের কাজ, সরকারকেই পুরোপুরি দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে।