ভূ-গর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিক

ভূ-গর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিক

বাংলাদেশে অন্তত পানির অভাব নেই। কথাটা কয়েক যুগ আগেও খুবই সত্য। কিন্তু সেই বিপুল পানির সামান্যই পানযোগ্য। নদী-নালা, পুকুর-ঝিল, এসবের পানি বেশির ভাগই দূষিত। এ পানি পান উপযোগী তো নয়ই, সাধারণ ব্যবহারোপযোগীও নয়। এখন নতুন উৎপাত আর্সেনিকের কারণে অনেক এলাকায় চাপকলের পানিও পানের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যা আমাদের দেশের জন্য বিরাট হুমকি স্বরূপ। বর্তমানে দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৯টি জেলায়ই পানিতে আর্সেনিক লেভেল গ্রহণযোগ্য সীমার (বাংলাদেশের জন্য ৫০ পিপিবি) চেয়ে ওপরে অবস্থান করছে। যুক্তরাজ্য ভিত্তিক বিখ্যাত চিকিৎসা সাময়িকী ল্যান সেটের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুসারে বাংলাদেশে আর্সেনিক দূষণের ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষ। আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, এই সংখ্যাটি আরো বেশি ৫ কোটি ৭০ লক্ষের মতো। আমাদের দেশে নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময়ে নলকূপের পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি ধরা পড়ে। ভূ-গর্ভের বেশ গভীরের পানিতে উচ্চ ঘনত্বের আর্সেনিকের উপস্থিতির ফলে এই দূষণ সৃষ্টি হয়। গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ অঞ্চলে গভীর নলকূপ দ্বারা পানি উত্তোলনের ফলে মূলত এই দূষণের উৎপত্তি হয়। বাংলাদেশে যেসব নলকূপের পানিতে আর্সেনিক দূষণ পাওয়ায় সেগুলোয় লাল রঙ করে দেওয়া হয়, যাতে এই নলকূপের পানি পান করা যাবে না .... জনগণ এই মেসেজটি পেয়ে যায়। মানুষের জন্য এটি একটি নীরব ঘাতক। মানুষের জন্য এর লেথাল ডোজ (খউ) হচ্ছে ১২৫ মিলিগ্রাম। গ্রহণের মাত্রা ও ঘনত্বের ওপর নির্ভর করে আট থেকে ১৪ বছর পরে এটির কার্যকারিতা মানুষের শরীরে দৃশ্যমান হয়। শিল্পজাত বর্জ্য, গৃহস্থালি বর্জ্য, পয়:বর্জ্য ইত্যাদি নদ-নদী ও জলাশয়ে নিঃসরণ বন্ধ করা গেলে নদী দূষণ বন্ধ হবে।  ভূ-গর্ভস্থ পানি ব্যবহার হ্রাসের ফলে আর্সেনিক দূষণের হারও বেশি কমে আসবে।