ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাচ্ছে

ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাকাশ সংস্থা (নাসা) বলছে, পৃথিবীর ভূগর্ভে পানির যত মজুদ আচে তার এক তৃতীয়াংশই মানুষের কর্মকান্ডের কারণে দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। ভূ-গর্ভের বাকি দুই-তৃতীয়াংশ পানির সঠিক পরিমাণ কত তা স্পষ্টভাবে জানা না থাকায় তা জানা এবং সে পানি কত সময় পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে তা বের করার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা। পানির স্তর নিচে নামার বিপদ থেকে নদ-নদীর দেশ বাংলাদেশেও মুক্ত নয়। সারা দেশেই পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পানি সম্পদ প্রকৌশল বিভাগের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রতি বছর ভূ-গর্ভের পানির স্তর দুই থেকে পাঁচ মিটার করে নিচে নামছে। এতে পানিতে আর্সেনিকের পরিমাণ যেমন বাড়ছে, আশংকা দেখা দিয়েছে ভূমিধস ও মাটি দেবে যাওয়া সহ নানা দুর্ঘটনার। চৈত্র মাস বোরো ধানে সেচের পিক সিজন। অব্যাহতভাবে পানির স্তর নিচে নামায় পানির তীব্র সংকট দেখা দেওয়ার আশংকা করা হচ্ছে। বিএডিসির হিসেবে এ বছর ৫৩ জেলার ২১৬ উপজেলায় সেচ মৌসুমে দেখা দিয়েছে ভূ-গর্ভস্থ পানির তীব্র সংকট।

মৌসুমের শুরুতেই সোয়া তিন লাখ নলকূপে পানি উঠছে না। এর মধ্যে বগুড়া অঞ্চলের দেড় লাখ নলকূপে পানি পাচ্ছেন না কৃষক। বরেন্দ্র অঞ্চলে প্রায় এক লাখ অগভীর নলকূপে পানি উঠছে না। পানির এ দুষ্প্রাপ্যতায় বেড়ে যাচ্ছে কৃষকের সেচ খরচ। বিএডিসির ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্পের হিসাবে আগামী ১০ বছরে ব্যয় তিনগুণ বাড়বে। কৃষি উৎপাদনের ৬২ শতাংশ ব্যয় হচ্ছে সেচে। সংস্থাটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, এক দশক আগেও প্রতি হেক্টরে বোরো আবাদে সেচের খরচ ছিল চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। কিন্তু গত মৌসুমে তা ১২ থেকে ১৬ হাজার টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এ ছাড়া পানির স্তর এক ফুট নিচে নামলে, কৃষিতে বছরে অতিরিক্ত ব্যয় করতে হয় ৯০ কোটি টাকা। নদ-নদীর ধারণ ক্ষমতা বাড়ানো ও দূষণ বন্ধে নিতে হবে পদক্ষেপ। এ ক্ষেত্রে কোথাও হেলাফেলা কাম্য নয়।