ভিটামিন এ কর্মসূচি স্থগিত

ভিটামিন এ কর্মসূচি স্থগিত

ঘুরে ফিরে বারবারই ভিটামিন এ ক্যাম্পেইনের নামে ঝুঁকির মুখে ফেলা হচ্ছে দেশের কোটি কোটি শিশুকে। বিষয়টি নিয়ে একদিকে উদ্বেগ-উৎকন্ঠায় থাকছেন অভিভাবকরা, অন্যদিকে জাতীয় কর্মসূচির আওতায় সরকারের এই উদ্যোগও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে। মানহীন ক্যাপসুলের কারণে শেষ পর্যন্ত স্থগিতই করতে হল ভিটামিন এ ক্যাপসুলের ক্যাম্পেইন। রাতকানা রোগ প্রতিরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত শনিবার সারা দেশে শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কথা ছিল। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডাঃ মোঃ মুরাদ হাসান বলেছেন, মামলা দিয়ে ভারতীয় একটি অখ্যাত কোম্পানির কাছ থেকে নিম্নমানের ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল কিনতে বাধ্য করা হয়। পরিস্থিতি তৈরির নেপথ্যে থাকা চক্রটি বারবারই থেকে যাচ্ছে আড়ালে, ধরা ছোঁয়ার বাইরে। যতবারই ভিটামিন এ ক্যাপসুলের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, ততবারই সরকারের তরফ থেকে তা কৌশলে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে বরং বাণিজ্যের নামে দেশি-বিদেশি চক্রটি হাতিয়ে নিচ্ছে বিদেশি সাহায্যের সরকারি খাতের কোটি কোটি টাকা।

প্রশ্ন হল, কেবল আদালতের আদেশের দোহাই দিয়ে নিম্নমানের ভিটামিন এ ক্যাপসুল আমদানিকারকরা কি পার পেয়ে যাবে? এর আগেও একই ধরনের অভিযোগের মুখে এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশনার প্রেক্ষাপটে দুই দফা এই কর্মসূচি বন্ধ থেকেছে। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোঃ মোস্তাফিজার রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা শুরুতেই ভারতীয় ওই প্রতিষ্ঠানকে সরবরাহ আদেশ দিতে আপত্তি জানিয়েছিলাম। ভারতীয় ওই কোম্পানীটির রেজিস্ট্রেশনও ছিলনা। স্থানীয় একটি এজেন্ট কোম্পানি এখানে লিয়াজোঁ করেন। রেজিস্ট্রেশন না থাকায় আমরা তখন ওই ওষুধের মানও দেখতে পারিনি। তবু পরবর্তী সময়ে আদালতের নির্দেশে আমরা অনাপত্তি পত্র দিতে বাধ্য হয়েছিলাম’। এসব অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। নিম্নমানের এ ওষুধ শিশুদের ঘাড়ে চাপানের জন্য কোন চক্র দায়ী- তাদের খুঁজে বের করে আইনের হাতে সোপর্দ করতে হবে।